বোরহানউদ্দিনে যানজটে আটকে ছিলো ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আগুনে পুড়ে সব ছাই
অক্টোবর ১১ ২০২৬, ২২:২০
রিয়াজ ফরাজী, বোরহানউদ্দিন : ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌর বাজারের মূল সড়কে তীব্র যানজটে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি আটকে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে অটোরিকশা, ভ্যান ও দোকানের মালামাল থাকায় গাড়িটি এগোতে পারেনি। এ ঘটনায় বাজারের যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন অংশে দোকানের মালামাল রাখা, যত্রতত্র অটোরিকশা-ভ্যান পার্কিং এবং অবৈধ দখলের কারণে প্রতিদিন যান চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি যানবাহনও বাধার মুখে পড়ে।
আগুন বা দুর্ঘটনার সময় কয়েক মিনিটের বিলম্বও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভবনে আগুন লাগা বা গুরুতর রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়ক দখল ও যানজটের কারণে জরুরি যানবাহন সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় এবং ঝুঁকি বাড়ে।
শুধু পৌর বাজার নয়, বোরহানগঞ্জ ও কুঞ্জেরহাট বাজারেও জরুরি যানবাহনের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সাইরেন বাজালেও যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি অনেক সময় নির্বিঘ্নে চলতে পারে না। জরুরি সময়ে সড়ক ফাঁকা করার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
এ অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জরুরি যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।
জরুরি সড়ক ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি:
যানজট নিরসনে সাময়িক অভিযান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি—
১. সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা: অবৈধভাবে রাখা দোকানের মালামাল সরিয়ে পথচারী ও যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত করা।
২. নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা: অটোরিকশা ও ভ্যানের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে যত্রতত্র গাড়ি রাখা বন্ধ করা।
৩. জরুরি যানবাহনের পথ নিশ্চিত করা: বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে সড়ক খোলা রাখা এবং সম্ভব হলে জরুরি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট করিডর চালু করা।
৪. নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ: যানজটপ্রবণ এলাকায় নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাইরেন শুনলে দ্রুত পথ ছেড়ে দেওয়া এবং জরুরি যানবাহনের চলাচলে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে চালক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা।
প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা:
বাজারের সড়ক জনসাধারণের চলাচল ও জরুরি সেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সড়ক দখল, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং ও যানজটের কারণে জরুরি সেবা বাধাগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বোরহানউদ্দিন পৌর বাজার, বোরহানগঞ্জ ও কুঞ্জেরহাট বাজারের যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। জরুরি যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান উদ্যোগ ও নিয়মিত তদারকি করা হবে।
নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনলে পথ ছেড়ে দেওয়া, যত্রতত্র গাড়ি না রাখা এবং সড়কে দোকানের মালামাল না ছড়ানো জরুরি। মনে রাখতে হবে, এক মিনিটের সচেতনতা ও সহযোগিতা কারও জীবন বাঁচাতে পারে। জরুরি সময়ে রাস্তা ফাঁকা রাখা অনুগ্রহ নয়, নাগরিক দায়িত্ব।









































