বিএনপি নেতার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

ডিসেম্বর ২৯ ২০২৪, ১৯:২২

স্টাফ রিপোর্টার !! বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুরুজ আহমেদের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রদল। পাশাপাশি দল থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবী জানিয়েছেন তারা। রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে চরবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল এ দাবি জানান।

ইউনিয়ন ছাত্রদলের পক্ষে সভাপতি মো সোহাগ হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরে তার দোসরদের নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুরুজ আহমেদ।

শুরুতে সুরুজ আহমেদের বিএনপির রাজনীতির সাথে কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। সুরুজের উত্থান ১৯৯৯ সালে ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী পানামা ফারুকের হাত ধরে। ওই সময় তিনি চরবাড়িয়া ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বিগত ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সুরুজ আহমেদ নিজেকে বিএনপি পরিচয় দিয়ে তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। পরে ২০০২ সালে যৌথ বাহিনীর হাতে অস্ত্র সহ আটক হন এই সুরুজ। জেল থেকে মুক্ত পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ২০০৯ সালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ফের প্রকাশ্যে আসেন সুরুজ। এরপরে আওয়ামীলীগের এক নেতার ছত্রছায়ায় তিনি চড়বারিয়া ইউনিয়নে বালুর ব্যবসা শুরু করেন। ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের আগে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সকল হরতাল, অবরোধ অবস্থান কমসূচী, মিছিল মিটিং এ নিষ্ক্রিয় ছিল। বরং স্থানীয় বিএনপির যারা আন্দোলনে সক্রিয় নেতাকর্মী ছিল তাদেরকে প্রোগ্রামে পুলিশের ভয় দেখিয়ে নিজে বাচার জন্য এবং তাদেরকে আন্দোলন সংগ্রমে অংশগ্রহন না করার জন্য পরামর্শ দিয়ে নিরুশাহিত করত। তিনি বিএনপির এক নেতার আশীর্বাদে অর্থের জোরে চরবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। যদিও ওই কমিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে চরবারিয়া ইউনিয়নে চাদাবাজি ও দখলদারিত্ব শুরু করে সুরুজ আহমেদ। তিনি তালতলী-পাতারহাট রুটের স্পিড ঘাট দখলে যান। সেখানে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন। ওই রুটে চলাচলকারী স্পিডবোট চালক ও মালিকরা তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চাঁদাবাজির অভিযোগও দেন।

চরবাড়িয়া ইউনিয়নে অবৈধ বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো, নিষিদ্ধ ঘোষিত বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদ। সরকার পতনের পর বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সেপ্টেম্বর মাস থেকে আবিদের ওই ড্রেজার দিয়ে বালুর ব্যবসা শুরু করেন সুরুজ আহমেদও। একই সাথে বরিশাল জেলা প্রশাসনের তালতলী বন্দরে থাকা দুইটি পুকুর দখল করে তিনি মাছ চাষ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ জানান চরবারিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রমাল স্বেচ্ছাসেবকদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। এতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সুরুজ আহমেদ।

লিখত বক্তব্যে আরও বলেন, সুরুজ ও তার ভাই রমিজ গত বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার রাতে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রসহ তালতলি বন্দরে বেশ কয়েকবার মহড়া দেয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এসময় চরবারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল সিকদারকে ধরে নিয়ে হাতুড়িপেটা ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে বন্দরে ফেলে যায়। তিনি বর্তমানে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামীকে আটক করেনি পুলিশ।

সুরুজ আহমেদ বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপর এরকম বর্বরচিত হামলা করেও বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলার বিএনপির এক শীর্ষ নেতার আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব পদ বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির কোন পদে আসলে সংগঠন তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই তার পাশাপাশি ত্যাগী নেতারা। তাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুরুজ আহমেদের বিচার দাবি করে তাকে বিএনপির সাধারণ সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কারের দাবী জানান।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চরবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাজ্জাদ, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন জীবন,শাহরিয়ার তনময় নবীন, শফিকুল ইসলাম সজল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সজীব, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বশির শিকদারসহ অনেকে।

অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে সুরুজ আহমেদ বলেন, সে তালতলী বাজার কমিটির নির্বাচিত সভাপতি। পাশাপাশি সে চরবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিবের পদপ্রার্থী। অপরদিকে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদের পিতা ও একই পদপ্রার্থী। ফলে রাজনৈতিক ভাবেই আমাকে হেনস্তা ও পদবঞ্চিত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তারা।