তদন্তের দাবি
বরিশালে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ
এপ্রিল ১৬ ২০২৬, ২২:৩৬
ফাহিম ফিরোজ : বরিশাল সদর উপজেলার হোগলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নয়ঁগাও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, হোগলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছে ৭০ জন। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়মিত পরীক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে এডমিট কার্ড বিতরণের সময় কেন্দ্র ফি’র নামে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর মানবিক শাখা থেকে ৪৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ২১ জন এবং বিজ্ঞান শাখা থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ফরম পূরণের সময় নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও আবার নতুন করে অর্থ নেয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম।
হোগলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী রেদোয়ান হোসেন বলেন, “আমি ২৬০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছি। পরে এডমিট কার্ড নিতে গেলে আবার ৫০০ টাকা কেন্দ্র ফি দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা না দিলে এডমিট কার্ড দেওয়া হতো না।”
আরেক পরীক্ষার্থী আরমান জানায়, “আমাদের বলা হয়েছে কেন্দ্র ফি না দিলে পরীক্ষায় বসতে সমস্যা হবে। তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়েছে।”
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে নয়ঁগাও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও। ওই বিদ্যালয়ের ৩৩ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকেও একইভাবে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী মোনতাসির। তিনি বলেন, “ফরম পূরণের সময় সব টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে আবার নতুন করে টাকা নেয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য কষ্টকর।”
এদিকে, অনেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত এই টাকা দেওয়া তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে এভাবে টাকা নেওয়া অন্যায়। আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ জিম্মি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে হোগলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত কোনো টাকা নেয়া হয়নি। কেন্দ্র ফি বাবদ ৫০০ টাকা নেয়া হয়েছে।” তবে ফরম পূরণের সময় এই ফি নেয়া হয়েছিল কিনা বা কোনো রশিদ রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা খুঁজে দেখতে হবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোর্ড নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের সময়ই কেন্দ্র ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এডমিট কার্ড বিতরণের সময় নতুন করে কোনো ফি নেওয়ার বিধান নেই।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, “ফরম পূরণের সময়ই কেন্দ্র ফি নেয়া হয়। এডমিট কার্ড দেওয়ার সময় নতুন করে কেন্দ্র ফি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ নিয়ে থাকে, তাহলে সেটি অনিয়ম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করা হবে।’
আগামী ২১ এপ্রিল সারাদেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এমন অভিযোগ সামনে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।










































