পরকীয়ার অভিযোগে ভাঙনের মুখে ৮ বছরের সংসার, বাবার স্নেহবঞ্চিত দুই শিশু

সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২৬, ১৯:৪১

ফাহিম ফিরোজ : একটু একটু করে গড়ে তোলা সংসার। স্বপ্ন ছিল স্বামী-সন্তানকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে চুরমার। পরকীয়ার অভিযোগ, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের ঘটনায় ধ্বংসের পথে আব্দুল হাদী ও জান্নাতুল ফেরদৌসের আট বছরের সংসার। স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে পড়েছে তাদের অবুঝ দুই সন্তান। বাবা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বাবার আদর, স্নেহ ও আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত তারা।

অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের মা ও বিদেশ থেকে তার বাবা পাঠানো সংসারের খরচ ও স্বামীর ঋণ পরিশোধে ১০ লাখ টাকার বেশি অর্থ দিয়েছেন। এরপরও আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন এবং তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জান্নাতুল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২০ জুলাই কাউখালী উপজেলার জয়কুল এলাকার আব্দুল হাদীর সঙ্গে বরিশাল সদর উপজেলার শারশী বাজার এলাকার মো. ইয়াকুব আলীর বড় মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আয়শা (৬) ও আয়ান (২ বছর ৮ মাস) নামে দুই সন্তান রয়েছে।

জান্নাতুলের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে তার স্বামী শ্বশুর শাশুড়ীর কাছ থেকে টাকা নিতেন। এরপরও স্বামী আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং সংসার থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।জান্নাতুলের আরও অভিযোগ, আব্দুল হাদী ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে চাকরির সুবাদে ভোলায় বদলি হওয়ার পর সেখানে বাড়িওয়ালার বোন খাদিজার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকেই স্বামী তার প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠেন এবং তাকে সংসার থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ তার।

একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি জান্নাতুল ফেরদৌসকে বাবার বাড়িতে রেখে চলে যান আব্দুল হাদী। এরপর স্ত্রীকে আর সংসারে ফিরিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তিনি অনড় থাকেন বলে অভিযোগ জান্নাতুলের।

পরিস্থিতির একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। পরে আদালতে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও স্বামী আর ফিরে আসেননি। যৌতুক ও পারিবারিক আদালতের দায়ের করা মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত করে রেখেছেন আব্দুল হাদী। ফলে ন্যায় বিচার পেতে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন এই নারী।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে দুই সন্তানের কোনো আর্থিক সহায়তা কিংবা নিয়মিত খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জান্নাতুল। ফলে মাত্র ৬ বছরের আয়শা ও ২ বছর ৮ মাস বয়সী আয়ানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

জান্নাতুল বলেন, “আমি সংসার করতে চেয়েছি। সন্তানদের নিয়ে স্বামীর সংসারে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু আমাকে আর সংসারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। আমার ছোট দুই সন্তান বাবাকে কাছে না পেয়ে কষ্টে আছে। তাদের কী অপরাধ—আমি জানি না।” তার অভিযোগ, নিজের সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি বহুবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

জান্নাতুলের দাবি, তিনি প্রতিশোধ চান না; সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং নিজের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন চান। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হাদী এর আগে জানিয়েছেন, দুই বছর আগে তাদের তালাক হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফয়সালার পর্যায়ে রয়েছে। তবে তালাকের কোন পত্র জান্নাতুল ফেরদৌস পাননি। তার স্বামী মিথ্যাচার করছে বলে দাবী করেন জান্নাতুল।