সড়কে আটকে স্বামী-প্রসূতিকে মারধর, হাসপাতালের গেটেই মৃত সন্তান প্রসব
সেপ্টেম্বর ২৭ ২০২৬, ২২:১৫
মহিপুর প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাঙা সড়কে পথ আটকে স্বামী ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে প্রসূতির পেটে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের আটকে রাখা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রসববেদনা শুরু হলে হাসপাতালের গেটের সামনে সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। পরে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রসূতি তানিয়া বেগম উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের বেতমোর গ্রামের কৃষক হাবিব পাহলানের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে তানিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত ইজিবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ভাঙা সড়কে কয়েক যুবক আড্ডা দিচ্ছিলেন।
ইজিবাইক চলাচলের জন্য তাদের সরে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবের গাড়ির চাবি নিয়ে নেন বলে অভিযোগ। হাবিব পাহলান বলেন, স্ত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তাদের সরে যেতে বলেছিলেন তিনি। কিন্তু তারা গাড়ির চাবি নিয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। স্ত্রী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তানিয়ার পেটে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
এরপরও তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। হাবিব আরও বলেন, তার বাবা দুলাল হাওলাদার তানিয়ার অবস্থা দেখে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর সহযোগিতায় তারা ছাড়া পান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তানিয়ার প্রসববেদনা শুরু হয়। হাসপাতালের গেটের সামনে তিনি সন্তান প্রসব করেন।
পরে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। চাকামইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর ফকির বলেন, কয়েকজন বখাটের কারণে একটি প্রাণ ঝরে গেছে। তিনি তানিয়া, তার স্বামী ও শ্বশুরের চিকিৎসার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গিয়েছেন। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার এহসানুল হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আরও আগে হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর সুযোগ থাকত। তানিয়া বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










































