অবহেলায় ধ্বংসের মুখে চাখারের ডাকবাংলো, সংস্কারের দাবি

সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২৬, ২৩:১৯

বানারীপাড়া প্রতিনিধি : উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল) জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে চাখার। সেই সময়ে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পর্যটক ও ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটদের সাময়িক আবাসন ও বিশ্রামের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল চাখার ডাকবাংলাটি। এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের স্মৃতিবিজড়িত এক অনন্য ঐতিহাসিক স্থান। তবে কালের বিবর্তনে এবং যথাযথ তদারকির অভাবে শতবর্ষী এই ডাকবাংলাটি আজ এক পরিত্যক্ত অকেজো ভবনে পরিণত হতে চলেছে।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক যখনই তাঁর জন্মভূমি চাখারে আসতেন বা রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করতেন, তখন এই ডাকবাংলাটিকে তাঁর রাজনৈতিক বৈঠক ও বিশ্রামের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। তৎকালীন সময়ে কলকাতার অনেক নামী-দামী রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাথে দেখা করতে এসে এই ডাকবাংলাতেই অবস্থান করতেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও এর একটি কৌশলগত ভূমিকা ছিল; বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের ওপর নজর রাখতে এবং গোপন বৈঠক ও কৌশল নির্ধারণে ভবনটি ব্যবহার করতেন।

বর্তমানে বরিশাল জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলাটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায় তদারকির অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দূর থেকে দেখলে এটিকে একটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত পুরনো অকেজো বাড়ি বলেই মনে হয়। অবকাঠামোগত বেহাল দশার কারণে এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অতিথি বা পর্যটক রাতে অবস্থান করতে পারেন না বা আসেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা নিস্তব্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর ডাকবাংলা প্রাঙ্গণে মাদকের বেচাকেনা ও সেবনের দেদারসে আড্ডা বসে, যা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চরম হুমকি রূপ নিয়েছে। ডাকবাংলার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার/কর্মচারী (মোঃ আরব আলী)-র সাথে কথা বললে জানা যায়, তিনি নিয়মিত এখানে অবস্থান করেন না। স্থানীয়দের মতে, তিনি মাসে কেবল একবার এসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে চলে যান।

এ বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সপ্তাহে দুইবার আসেন দাবি করে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। চাখারে অবস্থিত শেরেবাংলা স্মৃতি জাদুঘর, শেরেবাংলা ফজলুল হক কলেজ এবং তাঁর পৈতৃক ভিটা দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আসেন। কিন্তু উপযুক্ত আবাসনের অভাবে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, ঐতিহ্যবাহী ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকাতর এই শতবর্ষী ডাকবাংলাটিকে দ্রুত সংস্কার করে সচল করতে হবে। এটি পুনর্র্নিমাণ বা প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে একদিকে যেমন ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে চাখারের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ প্রশাসন ও উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন এলাকাবাসী।