সংরক্ষিত নারী আসনের বরিশাল বিভাগের ৪ প্রার্থীর হলফনামা

সম্পদে এগিয়ে সেলিমা, মামলায় শীর্ষে জীবা

এপ্রিল ২৬ ২০২৬, ২০:৪৪

ফাহিম ফিরোজ : 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বরিশাল বিভাগে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী এক রাজনৈতিক সমীকরণ। বরিশাল থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও আলোচনায় উঠে এসেছেন আরও একজন। কিশোরগঞ্জ-৫ ও ময়মনসিংহ-১ আসন থেকে জোটের মনোনয়ন পাওয়া ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁই। তার বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুরে। চার প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়-এ লড়াই শুধু নির্বাচনী নয়, বরং সম্পদ, মামলা, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও প্রজন্মগত পার্থক্যের এক বাস্তব প্রতিফলন।

সম্পদে এগিয়ে, অভিজ্ঞতায়ও শীর্ষে:
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান সম্পদের দিক থেকে অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। তার বার্ষিক আয় ৩৬ লাখ ৩ হাজার ২৩৯ টাকা এবং মোট সম্পদ ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩৭ টাকা। নগদ অর্থ ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং ৩০ ভরি স্বর্ণ তার আর্থিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা ৮টি মামলা তার প্রার্থিতায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

মামলার শীর্ষে জীবা আমিনা:
ঝালকাঠির জীবা আমিনা খান মামলার সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৯টি মামলা। তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ ৮০ লাখ ৩৬ হাজার ৩২ টাকা। ৫০ ভরি স্বর্ণ ও উল্লেখযোগ্য নগদ অর্থ তার সম্পদের কাঠামোকে আলাদা করে তুলেছে। শিক্ষাগতভাবে তিনি স্বশিক্ষিত, যা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে।

পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিতে মিতু:
ডা. মাহমুদা আলম মিতু এই চার প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র যার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদ ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও পেশাগত অবস্থান তাকে আলাদা করেছে। তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী।

তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক জুঁই:
সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থী সুলতানা জেসমিন জুঁই এই নির্বাচনী আলোচনায় নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার বয়স ৩৪ বছর। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের বুইচাকাঠী গ্রামের এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ ২৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তার কাছে রয়েছে ১৭ ভরি স্বর্ণ ও ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫৩ টাকা নগদ। তবে তার বিরুদ্ধেও রয়েছে ৫টি মামলা, যা তার রাজনৈতিক যাত্রার বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। তিনি স্নাতক পাস।

বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি এই চার প্রার্থী:
চার প্রার্থীর মধ্যে বয়স, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। সবচেয়ে বয়স্ক সেলিমা রহমান এবং সবচেয়ে কম বয়সী সুলতানা জেসমিন জুঁই। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমএ, এমবিবিএস, স্নাতক থেকে স্বশিক্ষিত-সব ধরনের প্রোফাইলই এখানে উপস্থিত। এটি প্রমাণ করে, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে।

এই চার প্রার্থীর প্রোফাইল দেখলে বোঝা যায়-সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলীয় সমীকরণ এবং ব্যক্তিগত অবস্থানের সমন্বয়। অভিজ্ঞতা বনাম নতুন নেতৃত্ব, সম্পদ বনাম গ্রহণযোগ্যতা-এই দ্বৈত সমীকরণের মধ্যেই নির্ধারিত হবে শেষ পর্যন্ত কার প্রভাব বেশি বিস্তার করবে।

চার প্রার্থীর এই বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের একটি প্রতিচ্ছবি। তবে এই অংশগ্রহণ কতটা কার্যকর প্রতিনিধিত্বে রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।