উজিরপুরে চায়ের দোকানে অতর্কিত হামলা: স্কুলছাত্রীসহ ৩ জন আহত

মে ১৭ ২০২৬, ১৯:৪১

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের নাথারকান্দি গ্রামে জমি জমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক স্কুলছাত্রীসহ একই পরিবারের তিনজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১১ মে সোমবার আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় সুশীল হালদারের চায়ের দোকানের সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন-স্থানীয় দিনমজুর বিপুল হালদারের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে বৃষ্টি হালদার, বিপুলের ভাতিজা সুধাংশু হালদার এবং সুধাংশুর মেয়ে সেবিকা হালদার। এদের মধ্যে স্কুলছাত্রী বৃষ্টির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাথারকান্দি গ্রামের দিনমজুর বিপুল হালদারের সাথে তার প্রতিবেশী মৃত নগেন হালদারের ছেলে (চাচাতো ভাই) নিকুঞ্জ হালদারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, নিকুঞ্জ ও তার পরিবার বিপুলের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং ইতোমধ্যে কিছু জমি দখলও করে নিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিপুল ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হতো।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতের স্বজনরা জানান, গত সোমবার রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিকুঞ্জ হালদারের নেতৃত্বে তার সহযোগী জয়দেব, নিপুন হালদার, সজীব হালদার, সুমন হালদার, নিয়ন হালদার, স্বপন হালদারসহ একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিপুলের ভাতিজা সুধাংশু হালদার স্থানীয় সুশীল হালদারের চায়ের দোকানের সামনে এলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ সময় সুধাংশুর চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে তার মেয়ে সেবিকা হালদার এবং বিপুলের কিশোরী মেয়ে বৃষ্টি হালদার এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। হামলাকারীরা অত্যন্ত নির্মমভাবে কিশোরী বৃষ্টি ও সেবিকার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। প্রকাশ্য দিবালোকে (রাতে) একজন নাবালিকা স্কুলছাত্রীর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আহত সুধাংশু হালদার বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় নিকুঞ্জ হালদারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী বিপুল হালদার বলেন, ওরা আমাদের জমি কেড়ে নিতে চায়। বাধা দেওয়ায় আমার নিষ্পাপ মেয়েটা আর ভাতিজাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আমি এই সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাই। উজিরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।