নাজিরপুরে জিডির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলা: পিটিয়ে গুরুতর আহত

মে ০২ ২০২৬, ২৩:১৫

স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় মোঃ নিজামুল হক ফকির (৬১) ও ইমদাদুল ফকির আমান (১৬) নামে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আগে সাধারণ ডায়েরী এবং পরে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার শাখারিকাঠী ইউনিয়নের উত্তর চালিতাবাড়ী এলাকার মোঃ নিজামুল হক ফকিরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মোঃ ওয়াহাব ফকির গংদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ১১ এপ্রিল বেলা ১২টার দিকে স্থানীয় মনির হোসেনের দোকানের সামনে ভুক্তভোগী নিজামুল হক ফকিরের (৬১) পথরোধ করে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায় একই এলাকার মোঃ ফেরেজ ফকিরের ছেলে মোঃ ওয়াহাব ফকির (৬৫), দ্বীন মোহাম্মদ ফকিরের ছেলে নবাব ফকির (৩৫), মোঃ মুরাদ হোসেন (৪০), মোঃ রাজিব ফকির (২৩), আইয়ূব আলী ফকিরের ছেলে মোঃ ওহিদ ফকির (৪০), মোঃ জাহিদ ফকির (৩৫), আঃ রশিদ খানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম খান (৩৮) ও মৃত সফিজ উদ্দিন ফকিরের ছেলে মোঃ আইয়ূব আলী ফকির (৬৭)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় অভিযুক্তরা জিআই পাইপ, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় নবাব ফকির হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে নিজাম ফকির গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্য আসামিরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এসময় হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা ৯৬ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা দুই কিশোরসহ অন্যদেরও মারধর করা হয় এবং একজনের নাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহতের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় ও পরবর্তীতে আসামিরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। হুমকির কারণে বাদীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

এর আগে, ১০ এপ্রিল বেলা ১১টায় একই বিরোধকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী নিজামুল হক ফকির নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি নং-৪৪৫) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমির গাছ কেটে ক্ষতি সাধন করে এবং তাকে খুন জখমের হুমকি দেয়। এর একদিন পরে আসামীরা পরিকল্পিতভাবে বাদীর স্বামী উপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। পরের দিন ১২ এপ্রিল ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা. সুরাইয়া পারভীন বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, আসামীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। আসামীরা এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী নামে পরিচিত। তারা আইন-কানুন মানে না। এদের ভয়তে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।