ফিরোজ কমিশনারের ভাতিজার বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ৩ দিন আটকে রাখার অভিযোগ

মে ০৩ ২০২৬, ১৯:৩৫

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী ধান গবেষণা রোড এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে তিন দিন ধরে আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি রূপাতলী আবিদুন্নেছা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মামুন মাস্টার। তিনি স্থানীয় সান্টু হাওলাদারের ছলে এবং প্রভাবশালী বিএনপি নেতা- সাবেক কাউন্সিলর ফিরোজ মিয়া ও ব্যবসায়ী স্বপন মিয়ার ভাতিজা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে আজ রোববার (৩ মে) বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত শিক্ষার্থী মুনিয়া আক্তার (ছদ্মনাম) নগরীর আমতলা মোড়স্থ এ আর এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার বিকেলে মুনিয়া ধান গবেষণা রোড খেয়াঘাট সংলগ্ন আবিদুন্নেছা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকেই শিক্ষক মামুন মাস্টার তাকে প্রলোভন দেখিয়ে বা জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত মামুন মাস্টারের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর স্কুলব্যাগ পাওয়া গেছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

শিক্ষার্থীর বাবা মনির হাওলাদার জানান, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরপরই আমরা মামুনের চাচা ব্যবসায়ী স্বপন মিয়াকে জানাই। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে একদিন সময় চেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন মেয়েকে ফেরত পাওয়া যাবে। কিন্তু তিন দিন পার হলেও মেয়ের হদিস না পেয়ে আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। বর্তমানে আমরা আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় আছি।”

অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক মামুন মাস্টার বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার স্ত্রী-সন্তান আছে, আমি বর্তমানে বাসাতেই আছি। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চারিত্রিক স্খলনের অভিযোগ নতুন নয়।

এর আগেও সদর রোডের একটি আবাসিক হোটেলে অপ্রীতিকর অবস্থায় তিনি ধরা পড়েছিলেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন একে হানি ট্রাপ’ বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, মামুনের চাচা ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া বলেন, আমি উপকার করতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়েছি। থানার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। তবে মেয়েটি নিখোঁজ থাকলে তাকে খুঁজে বের করা পুলিশের দায়িত্ব।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সাব্বির হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগে পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলেছি। তবে অভিযোগের সাথে তথ্যের বাস্তবতার তেমন কোন মিল নেই।

এদিকে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে অপহরণের এমন অভিযোগে রূপাতলী এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।