বরিশালে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে হাতুড়ি পেটা
মে ০৬ ২০২৬, ২২:৪৩
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নয়ানি গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের এই হামলায় গুরুতর আহত কিশোরী এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে।
আহত কিশোরীর নাম সানজিদা ইসলাম শাফা, সে ওই এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। বর্তমানে শাফা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং মাথার আঘাতটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেনের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী মৃত শাজাহানের স্ত্রী পারুল বেগমের দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই শত্রুতার জেরে পারুল বেগম ও তার সহযোগীরা প্রায়ই বাকপ্রতিবন্ধী শাফার শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিদ্রূপ ও কটূক্তি করতেন।
শাফার মা সাজেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে কথা বলতে ও বুঝতে পারলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। পারুল বেগম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওকে খেপিয়ে তোলার জন্য সবসময় আজেবাজে কথা বলতেন। আমরা বারবার বারণ করলেও তিনি শোনেননি। আজ সকালে শাফা তাদের বাসার সামনে গেলে সামান্য অজুহাতে পারুল তার ওপর চড়াও হন এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত করেন।
সাজেদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, পারুল বেগম শুধু শাফাকেই নয়, বরং পুরো পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করার এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। হামলার সময় শাফার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পারুল বেগম ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শাফাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণাকাতর শাফা ইশারায় ও অস্পষ্ট স্বরে জানায়, পারুল বেগম পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত পারুল বেগম জানান, আমি হাতুড় দিয়ে একটা বাড়ি দিয়েছি, কিন্তু সাফা আমার ঘরের সিঁড়ির উপর হাতুর দিয়ে টাক দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে।
এ ঘটনায় নয়ানি গ্রামসহ পুরো চরকাউয়া ইউনিয়নে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত পারুল বেগমের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবন্ধীর বাবা জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান।









































