নগরীর চকবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে হামলা, একই পরিবারের আহত -৫
এপ্রিল ২৫ ২০২৬, ২২:৩২
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র চকবাজারের জাহানারা মার্কেটে একটি লেডিস গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দখলদারিত্বের জেরে চালানো এই হামলায় দোকান মালিক রাবেয়া আফরিন কান্থাসহ তার পরিবারের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘সুন্দরী বিডি’ নামক দোকানের মালিক রাবেয়া আফরিন কান্থার সাথে তার ফুফু শাহনাজের ব্যবসায়িক ডেকোরেশন ক্রয় নিয়ে আগে থেকেই সুসম্পর্ক ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, দোকানের ক্রমবর্ধমান বিক্রি ও ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে শাহনাজ ও তার সহযোগীরা দোকানটি দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
দোকান মালিক কান্থা জানান,ফুফুর অনুরোধে আমি তার দেওয়া দুইজন লোককে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেই। কিন্তু পরবর্তীতে বুঝতে পারি তারা মূলত দোকান দখলের পাঁয়তারা করছে। আমি তাদের দোকানে আসতে নিষেধ করলে তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে হুমকি দিতে থাকে।
এ নিয়ে ইতিপূর্বে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে কান্থাকে দোকান পরিচালনার আশ্বাস দেয় এবং শাহনাজ পক্ষকে অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করে।
পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আজ শনিবার আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে শাহনাজের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ‘সুন্দরী বিডি’তে অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে কান্থার পরিবার তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আহতরা হলেন:রাবেয়া আফরিন কান্থা,কান্থার বাবা কামাল ফকির,স্বামী আরিফ, মা সুলতানা রাজিয়া এবং ভাই শাফায়েত। হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুর করার পাশাপাশি ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় আহতরা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫ জন হামলাকারীকে আটক করে। তবে রহস্যজনক কারণে পরবর্তীতে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আহতদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে, নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে হামলাকারী শাহনাজ ও তার পক্ষের কয়েকজনও লোকদেখানো চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আহত কান্থা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত কামাল ফকির ও কান্থার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাদের শরীরে জখমের চিহ্ন গুরুতর।
অন্যদিকে অপরপক্ষের আহত শাহনাজ জানান, দোকানের ডিড কান্থার নামে কিন্তু দোকানের মালামাল থেকে শুরু করে নগদ অর্থ সবকিছু তাঁর। এটাকে নিয়ে কান্থা ও তার পরিবারের লোকজন তাদের উপরে হামলা চালিয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ আল মামুনের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









































