বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটক ৪
অক্টোবর ০৮ ২০২৬, ১৯:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক এএসআইসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার একটি বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম।
আটকরা হলেন—বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এএসআই ও খুলনা সদরের শেরেবাংলা রোড এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৮), বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার ভট্টখামার নোয়াপাড়া এলাকার আবু সাঈদ মোল্লার মেয়ে নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার মৃত এম এ বারির ছেলে মো. মিরাজুল ইসলাম (৩৪) এবং বরিশাল নগরের কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার হেমায়েত গাজীর ছেলে ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ কড়াপুর এলাকায় একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচা, সেবন ও আড্ডা হয়—এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িটি ঘেরাও করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
তিনি বলেন, প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টার পর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন তারা। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় আটক দেলোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানার পুলিশকে জানানো হলে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এরপর তাকে পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি; মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এ কারণে পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে তার বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তিনি আরও বলেন, ওই পুলিশ সদস্য সেখানে কী কারণে গিয়েছিলেন, সেটি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন। পাশাপাশি তার ডোপ টেস্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।
এদিকে, এএসআই দেলোয়ার হোসেন ছাড়া বাকি তিনজনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করায় তাদের ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন ও চাকরিবিধি অনুসারে এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডোপ টেস্টের বিষয়ে ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টিও নিয়ম অনুযায়ী করা হবে।








































