বরিশাল মহানগরীতে ৭৬ দিনে গ্রেপ্তার ১০৫৯

অক্টোবর ১৬ ২০২৬, ২১:৩১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল মহানগরীতে অপরাধ দমনে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি)। গত ৬ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৬ দিনে মহানগরীর চার থানা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে ১ হাজার ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক মামলার আসামিও রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে মাঠপর্যায়ে অভিযান জোরদার করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোঃ সালেহ। রাতভর অভিযান, ব্লক রেইড ও নিয়মিত তল্লাশির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। এতে নগরীতে মাদকের বেচাকেনা ও ব্যবহার কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ।
বিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে মহানগরীতে ১৭৭টি মামলায় ৩৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ৫৩টি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন ৫৯ জন। সেপ্টেম্বর মাসে ১৪২টি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৪১৬ জনকে। তাদের মধ্যে ৫১টি মাদক মামলায় ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৫ দিনে চার থানায় ৮১টি মামলায় ২৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১৯টি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন ২৫ জন।
গত ৬ আগস্ট বিএমপির ২২তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবু রায়হান মোঃ সালেহ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। এর ধারাবাহিকতায় মহানগরীর চার থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রায় প্রতি রাতেই উপপুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কোনো না কোনো থানা এলাকায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় চালানো হচ্ছে ব্লক রেইডও।
পুলিশের এসব তৎপরতার মধ্যে নগরীর বালুর মাঠ বস্তির মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত প্রধান ব্যবসায়ীকেও আটকের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগে আলোচিত এলাকাটিতে পুলিশের এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে শুধু মহানগরীর অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। তাদের মতে, বরিশালের আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদকের সরবরাহ ও কারবার বন্ধ করা না গেলে নগরীতে মাদক প্রবেশের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে। জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিত গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের চালান জব্দ করলেও বাহকদের পাশাপাশি মূল সরবরাহকারী ও কারবারের হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি নগরীতে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শাসক দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিসহ নানা অপতৎপরতায় জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল মহলের দাবি, এসব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়কসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা চাঁদাবাজদের দলে আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান নগরবাসী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু গ্রেপ্তার অভিযান নয়, অপরাধের উৎস চিহ্নিত করা, মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর রাখাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে বরিশাল মহানগর পুলিশের পাশাপাশি বরিশাল রেঞ্জের সব পুলিশ ইউনিটের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মোঃ সালেহ বলেন, “আমাদের জনবল সংকটসহ অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আন্তরিকতার সঙ্গে জনজীবনে নিরাপত্তা বিধানে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে যতটুকু প্রয়োজন, আমরা সেই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনেই মাঠে রয়েছি।” নগরবাসীর প্রত্যাশা, চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদক কারবারের মূল হোতা, চাঁদাবাজ ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব হবে।