আওয়ামী লীগ নেত্রী পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল!
জানুয়ারি ২৯ ২০২৬, ০০:৫২
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও প্রভাবশালী একটি চক্র পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত—এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় তিনি বরিশালের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে এস এম সাইয়্যেদুর রহমান (৫৫) জানান, তার পিতা মৃত হামিদুল আকবর সন্যামত ১৯৮০ সালে বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২৫০ নম্বর দলিলমূলে ২১.৫০ শতাংশ জমি নুরুল আকবর সন্যামতের কাছ থেকে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি ও তার ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন এবং সেখানে মাছের ঘের পরিচালনা করছেন। জমিটির এসএ খতিয়ান ও ডিসিআর খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২০২৪ সনের ২৪ জানুয়ারী রুঘুনদ্দিন গ্রামের মো. রাহাত হাওলাদার, নুপুর বেগম ও আয়শা আক্তার (শানু)সহ কয়েকজন আওয়ামী সন্ত্রাসী নিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক মাটি কেটে দখলের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে বাদীকে গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ৩ নম্বর বিবাদী আয়শা আক্তার (শানু) বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক সদস্য এবং ফরিদপুর ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়া তার ভাই মোফাজ্জেল হোসেন (ব্যাঙ্গা) সন্যামতের কটুম বরিশাল কাউনিয়া থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ পদন্নোতি পেয়ে এ, এস,পি হওয়ার সুবাদে ঢাকায় ডিবি অফিসে কর্মরত প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয়তা থাকায় ওই প্রভাব খাটিয়ে তদন্তে হস্তক্ষেপ ও মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, বিবাদীরা ১৯৭৪ সালের একটি পুরোনো দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে বিকৃত করে ভিন্ন দাগ ও ভিন্ন মালিকানা দেখিয়ে ৩ নং বিবাদী আয়শা আক্তারের ভাই মোফাজ্জেল হোসেন(ব্যাঙ্গ) সন্যামতের নামে বরিশাল জেলার বাকেরগজ্ঞ উপজেলার জে, এল, ১৩৭ রঘুনদ্দিন মৌজায় এস, এ, নতুন সৃজিত ৫৮৫ খতিয়ান সৃষ্টি করেছে, যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনুসন্ধানে ওই দলিলের সঙ্গে বিবাদীদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও প্রভাবশালীদের কারণে কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি। স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টাকরেও ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জাল দলিল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্তাধীন বলে জানানো হয়েছে।









































