লালমোহনে জ্বর-সর্দি-কাশির ভয়াবহতা, বাড়ছে আতঙ্ক

জুলাই ১৩ ২০২৫, ২০:১৬

লালমোহন প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহন উপজেলায় ভয়াবহভাবে দেখা দিয়েছে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, কেউই মুক্তি পাচ্ছেন না এই রোগ থেকে। যার ফলে উপজেলা জুড়ে বেড়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। প্রতিটি ঘরে কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে।

আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ভিড় করছেন রোগীরা। আক্রান্ত অনেকে সপ্তাহখানেক পরেও সুস্থ না হওয়ায় ভর্তি হচ্ছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে বর্তমানের এই জ্বর, সর্দি ও কাশিকে ভাইরাসজনিত রোগ বলছেন চিকিৎসকরা। তারা আক্রান্তদের আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

জানা গেছে, গত ২০ দিন ধরে এই উপজেলায় জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ তীব্রভাবে বেড়েছে। এই ২০ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ থেকে অন্তত দুই হাজার রোগী জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন শতাধিক রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫ জন। উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার মো. ফজলুল হক বলেন, আমার আড়াই বছরের ছেলে মো. আব্দুল্যাহ ৮দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত ছিল।

অনেক ওষুধ খাওয়ানোর পরও এই সমস্যা না কমায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। এরপর থেকে ৩দিন ধরে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছি। অধিকাংশ ওষুধই এখানে পাওয়া যাচ্ছে না, যার জন্য বাহির থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তবুও ছেলে সুস্থ হয়ে উঠলেই আমরা খুশি। লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার দীপালী রাণী দে জানান, বর্তমানে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

আমাদের সকল নার্স-মিডওয়াইফরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের প্রাপ্যসেবা নিশ্চিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তবে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং মিডওয়াইফদের মোট পদ সংখ্যা ৩৪টি, আছেন কেবল ১২ জন। এই স্বল্প নার্স এবং মিডওয়াইফদের নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে আমাদের সত্যিই অনেক কষ্ট হচ্ছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলোতে জনবল পদায়ন করলে আমরা রোগীদের আরও সুন্দরভাবে সেবা দিতে পারবো।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, গত ২০ দিন ধরে এই উপজেলায় জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যার ফলে রোগীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পুরো জুন এবং জুলাই মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৬ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক-নার্সের বহু সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা রোগীদের সেবা নিশ্চিতের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।