হিজলায় শালিশের নামে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট
সেপ্টেম্বর ২২ ২০২৫, ১২:০১
হিজলা প্রতিনিধি : হিজলা উপজেলায় শালিশ ব্যবস্থা আজ ভয়ঙ্কর ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সিন্ডিকেট গড়ে শালিশের নামে দুর্নীতি, লুটপাট ও একপাক্ষিক রায় প্রদানের মাধ্যমে পুরো উপজেলাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন দৈনিক ভোরের আলো ও এশিয়ান টেলিভিশন-এর হিজলা উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ দুলাল হোসেন সরদার।
তিনি জানান, গত ১৪ জুলাই ২০২৪ তারিখে তার পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও বিক্রির চেষ্টা এবং বাউন্ডারী ভাঙচুরের অভিযোগে তার বড় ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে হিজলা থানার তৎকালীন এসআই মোঃ আরাফাত হোসেন উভয় পক্ষকে থানায় ডাকেন এবং স্থানীয়ভাবে দরবার শালিশের ব্যবস্থা করেন।
শালিশে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—
১। মোঃ শাহিন খান – হিজলা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার ভাগিনা। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ভুক্তভোগী বাবুল মাতুব্বর ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে তার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও গরু-মহিষ লুটপাট করে কয়েক কোটি টাকার মালামাল আত্মসাৎ করেছেন শাহিন খান ও তার অনুসারীরা।
২। মোঃ হানিফ দেওয়ান – উপজেলা বিএনপ নেতা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতার চাচা।
৩। মোঃ রিপন খান – গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক।
৪। মোঃ শাজাহান দপ্তরী – জাতীয় মৎস্যজীবী দলের সভাপতি।
সাংবাদিক দুলাল হোসেন সরদারের অভিযোগ, এই শালিশগণ বারবার বৈঠক বসিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নাম করলেও কোনো সমাধান করেননি। পরে তাকে না জানিয়ে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করে একপাক্ষিক রায় দেন। অথচ প্রতিটি বৈঠকে তার কাছ থেকেও মজুরি বাবদ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “এই শালিশগণ এলাকায় পেশাদার ভূমিদস্যু ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে কুখ্যাত। আমার মতো একজন সাংবাদিকের সাথেও যখন টাকার বিনিময়ে অন্যায় রায় দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।”
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই শালিশ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, লুটপাট ও একপাক্ষিক রায় প্রদানের মাধ্যমে অসহায় মানুষকে হয়রানি করছে।
এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা হারাবে।
একজন সচেতন নাগরিক মন্তব্য করেন “হিজলার এই শালিশ সিন্ডিকেট রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে সাধারণ মানুষ ভয় পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না। এখন সময় এসেছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার।”
এবিষয়ে এস আই আরাফাত হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন কয়েকবার বসা হয়েছে কিন্তু শালিশগন কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি, তাহলে রায়ের প্রশ্ন আসে কোথা থেকে?









































