বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি

অক্টোবর ০১ ২০২৫, ১৯:৩৫

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নে বিএনপির ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি শাহিন হাওলাদারের মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কবাই ইউনিয়নের উত্তর কবাই গ্রামে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাসিনা বেগম, ফাতেমা আক্তার, ফারজানা বেগম, রেবা বেগমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী। বক্তারা শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘শত্রুতামূলক’ ও ‘মিথ্যা’ আখ্যায়িত করে এর অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

বক্তাদের বরাতে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহিন হাওলাদার ও শওকত খানের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে এলাকার মসজিদে মাইকিং করে ডাকাতির বিষয়টি জানানো হলে স্থানীয়রা ডাকাত সোহেল খানকে আটক করে। এরপর গণপিটুনিতে সোহেল খান নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির একটি প্রতিপক্ষ গ্রুপ সোহেল খানের মাকে বাদী করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এই মামলায় পুলিশ শাহিন হাওলাদার, তার ভাই শামীম হাওলাদার এবং শওকত খানকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।

শাহিন হাওলাদারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। তিনি দাবি করেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডাকাত সোহেল খান তার গলায় রামদা ঠেকিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর বরিশাল আদালতে একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। ফারজানা আরও জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা শাহিন হাওলাদার, শামীম হাওলাদার ও শওকত খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, এলাকার বিএনপির একটি গ্রুপ এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে শাহিন হাওলাদারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। বক্তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, শাহিন হাওলাদার একজন সৎ ও জনপ্রিয় নেতা। তারা মনে করেন, এই মামলা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।