ভোগান্তি চরমে, দ্রুত খননের দাবি

নাব্যতা সংকট দেড় কিলোমিটার ঘুরে চলছে মিরগঞ্জ ফেরি

মার্চ ০৬ ২০২৬, ১৭:৪৩

ফাহিম ফিরোজ, বরিশাল : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মিরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় নদীর নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। নির্ধারিত চ্যানেলে নাব্যতা না থাকায় ফেরিগুলোকে এখন প্রায় ১ থেকে দেড় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী, যানবাহনের চালক এবং ফেরি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান—সবাইকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চ্যানেল সচল করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রহমতপুর–বাবুগঞ্জ–মুলাদী–হিজলা সড়কের ৮ম কিলোমিটার এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই মিরগঞ্জ ফেরিঘাটটি গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু বর্তমানে নদীর মাঝামাঝি প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় তীব্র নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

ফলে বাধ্য হয়ে ফেরিগুলোকে বিকল্প পথ ধরে প্রায় ১ থেকে দেড় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় বেশি লাগছে, তেমনি জ্বালানি ব্যয়ও প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এতে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে ৫ মার্চ সড়ক ও জনপদ বিভাগের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে ফেরিঘাট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ।

মেসার্স মোড়া এন্টারপ্রাইজের পক্ষে স্বাক্ষরকারী মো. রাকিবুল ইসলাম মামুন বলেন, “চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চালাতে আমাদের অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি যাত্রীদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দ্রুত ড্রেজিং করে চ্যানেল সচল করা না হলে ফেরি চলাচল আরও সংকটের মুখে পড়বে।”

ঘাট ব্যবহারকারী যাত্রীরাও এ নিয়ে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। যাত্রী মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, আগে খুব দ্রুত পার হওয়া যেত। এখন ফেরি ঘুরে যাওয়ায় সময় অনেক বেশি লাগে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।”

অন্যদিকে এক রোগীর স্বজন মো: আজম বলেন, “রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু ফেরি ঘুরে যাওয়ায় সময় বেশি লাগছে। জরুরি রোগী থাকলে বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। দ্রুত ড্রেজিং করে সমস্যা সমাধান করা দরকার।”

এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, “মিরগঞ্জ ফেরিঘাটের নাব্যতা সংকটের বিষয়টি আমরা জেনেছি। দ্রুত খননের জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।”

স্থানীয়দের মতে, এই ফেরিঘাটটি বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও হিজলা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাব্যতা সংকট দ্রুত নিরসন না হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।