ভিডিও ছড়িয়ে মানহানির অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে বিচার চাইলেন দুই তরুণ-তরুণী

মার্চ ০৬ ২০২৬, ১৭:৫২

স্টাফ রিপোর্টার : সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দাবি করা শাহরিয়ার শুভ ও মুনতাহা ইসলাম। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে পৃথক লিখিত বক্তব্যে তারা ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে শাহরিয়ার শুভ বলেন, গত ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) ইফতার শেষে নগরীর বৈদ্যপাড়া সংলগ্ন খান মঞ্জিলের বাসায় ফেরার সময় তিনি তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। কথা শেষ করে নিজের রুমের সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে গালাগালির শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি বুঝতে না পেরে দরজায় নক করলে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার কলার ধরে জোর করে রুমের ভেতরে টেনে নেয়।
তিনি বলেন, “আমি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো গালাগালি শুরু করে এবং তাদের একজন আমাকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে।” এ সময় তিনি দেখতে পান, তাদের পেছনে দুইজন মেয়ে ও তার রুমমেট সাকিব দাঁড়িয়ে ছিলেন।
শুভ আরও বলেন, পরে আরও লোকজন জড়ো হলে তারা রুম থেকে বের হয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি খারাপ দেখে তিনি পুলিশে ফোন করেন। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর কিছু লোকজন মব তৈরি করে এবং তাকে পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেয়নি। বরং তারা নিজেদের মতো করে ঘটনা পুলিশকে উপস্থাপন করে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় কিছু ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে একপাক্ষিকভাবে তা বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যেখানে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে, তার রুমমেট ও দুই মেয়েকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশের সামনে পুরো ঘটনা জানালে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে জানান তিনি।
শাহরিয়ার শুভ দাবি করেন, এ ঘটনার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যার ফলে তার মানহানি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনায় আমি নিজেই একজন ভুক্তভোগী। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা অপপ্রচার ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।”
এ সময় অপর ভুক্তভোগী দাবি করা মুনতাহা ইসলামও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৭ টায় তার বান্ধবী আখি তাকে জানায় যে তার এক বন্ধু সাকিব (বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) অসুস্থ। তাকে দেখতে যাওয়ার কথা বলে আখি তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়।
মুনতাহা ইসলাম বলেন, সেখানে তার বান্ধবী সাকিবের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ স্থানীয় কিছু উগ্র ছেলে এসে তাদের রুমে আটকে ফেলে এবং গালাগালি করতে থাকে। এ সময় সাকিবকে মারধরও করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “এর মধ্যে শাহরিয়ার শুভ বাসায় এসে পরিস্থিতি দেখে তাদের কাছে বাসায় ঢোকার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো কথা না বলে শুভ ভাইকে মারধর শুরু করে।”
পরবর্তীতে আরও লোকজন জড়ো হলে তারা রুম থেকে বের হয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়। পরে শুভ পুলিশে ফোন করে সাহায্য চান। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন ভিডিও ধারণ করে ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে গণমাধ্যমে প্রচার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুনতাহা ইসলাম দাবি করেন, এ ঘটনায় তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা তার মানহানির কারণ হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।