বানারীপাড়ায় সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে ২ নির্মাণ শ্রমিকের করুণ মৃত্যু

অক্টোবর ২২ ২০২৬, ২১:০৬

বানারীপাড়া প্রতিনিধি : বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ​নিহত শ্রমিকরা হলেন—পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভাড়াটিয়া ও সলিয়াবাকপুর গ্রামের আঃ মজিদ মোল্লার ছেলে মোঃ জামাল হোসেন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ চুন্নুর ছেলে মোঃ সোহাগ।

নিহত সোহাগ পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে এবং জামাল হোসেন স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। উভয়েই নিজ নিজ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাদের অকাল মৃত্যুতে দুটি পরিবারেই এখন চলছে শোকের মাতম। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মোঃ রিয়াজের নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাঠ ও বাঁশ খোলার কাজ করছিলেন ওই দুই শ্রমিক। সেপটিক ট্যাংকটির মুখ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা দিয়ে ঢাকা ছিল।

ফলে ভেতরে বিষাক্ত মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন ডাই অক্সাইডের সৃষ্টি হয় এবং অক্সিজেনের তীব্র সংকট তৈরি হয়। ট্যাংকের মুখ খোলার পর পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই কাজ শুরু করলে প্রথমে এক শ্রমিক ভেতরে ঢুকে বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করতে দ্বিতীয় শ্রমিক ট্যাংকে নামলে তিনিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে ভবনে আগুন লাগার ভুল সংবাদ দেওয়া হয়েছিল।

তবে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় যৌথভাবে অগ্নিনির্বাপণের বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুজনকে। ​উদ্ধার শেষে দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

​ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আরো জানান, সচেতনতার অভাবেই মূলত এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আবদ্ধ সেপটিক ট্যাংকের জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বের হওয়ার জন্য মুখ খোলার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।পরে খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে লাশ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি হিসেবে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে নিহতদের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার আকুতি জানান এবং এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ​এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মজিবুর রহমান জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি পেলে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বানারীপাড়া থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুই নির্মাণ শ্রমিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

এছাড়া গভীর শোক জানিয়েছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শাহে আলম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ ইমরান হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুয়েল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন মল্লিক, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাব্বির হোসেন সুমন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ফকির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও বানারীপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সাইদুল ইসলাম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস শেখ, সাধারণ সম্পাদক শুভ মোঘল ও স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।