কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত
অক্টোবর ১৭ ২০২৬, ২২:৩২
আমতলী প্রতিনিধি : কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ সাত স্বজন। নিহত তিনজনের বাড়ি আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালীপুরা গ্রামে। বাকি চারজনও তাঁদের নিকটাত্মীয়। একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এ ঘটনায় কালীপুরা গ্রামজুড়েও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফাইজান আহম্মেদসহ তাঁর জামাতা নুরে আলম এবং ভায়রা মামুনুর রশিদের পরিবারের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার আনন্দভ্রমণে কক্সবাজারে যান। সেখানে তাঁরা টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। তবে নুরে আলম শুক্রবার ঢাকায় ফিরে আসেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় কয়েকজন জানালা ভেঙে বের হতে সক্ষম হলেও সাতজন ভেতরে আটকা পড়ে যান। পরে তাঁদের মৃত্যুর খবর পরিবারে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। নিহতদের মরদেহ শনাক্ত ও গ্রহণের জন্য পরিবারের সদস্যরা শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত সাতজন হলেন—কবির তালুকদারের মেয়ে ফারিহা কবির, ছেলে কৌশিক জেরিফ ও নাতি ফাইজান আহম্মেদ। অপর চারজন হলেন তাঁর স্বজন ইসরাত জাহান মালিহা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, লায়লা জাহান নাভিলা ও নাফিসতা মীম। তাঁদের বাড়ি ঢাকার ফতুল্লা এলাকায় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
নিহত কৌশিক জেরিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তাঁর এমন অকালমৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। ‘আমার কিছুই রইল না’একসঙ্গে ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কবির তালুকদার। স্বজনদের মৃত্যুতে শোকাহত এই বৃদ্ধের কান্না যেন থামছেই না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার কিছুই রইল না। ছেলে, মেয়ে ও নাতি মারা গেছে। তারপর আমার ভায়রার পরিবারের চারজনও মারা গেছেন।” তাঁর এই আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবারের পরিবেশ। স্বজনদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত কালীপুরা গ্রামের মানুষও।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “বিষয়টি জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।” আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “শুনেছি, অগ্নিকাণ্ডে আমতলীর একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিবার সহায়তা চাইলে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।”
কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ সাত স্বজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমতলীজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। স্বজনদের হারিয়ে পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি।








































