শেবাচিমে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর প্রেসক্রিপশন ও রিপোর্ট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ

অক্টোবর ১৭ ২০২৬, ২২:৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করানোর জেরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের এক নারী রোগীর প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মেডিসিন বহির্বিভাগের চিকিৎসক ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ভুক্তভোগী মিম বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা থেকে জ্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাঁর অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রমজান আলী কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। পরে সুবিধা ও কিছুটা ছাড় পাওয়ায় হাসপাতালের সামনের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষাগুলো করান তিনি। দুপুরে পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষে গেলে নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করানোর বিষয়টি নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেদন মানসম্মত হয়নি বলে মন্তব্য করে চিকিৎসক তাঁর প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন মিম।

মিম বলেন, অনেক দূর থেকে কষ্ট করে চিকিৎসা নিতে এসেছেন তাঁরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে তাঁদের বেশ কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, একজন চিকিৎসক কীভাবে রোগী ও স্বজনদের সামনে টাকা দিয়ে করানো পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং নিজের দেওয়া প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলতে পারেন? চিকিৎসকের কাছ থেকে তাঁরা ভালো ব্যবহার প্রত্যাশা করেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. রমজান আলীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যোগসাজশ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে গেলে তা গ্রহণ না করা এবং রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক ডা. রমজান আলী বলেন, রোগীর আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি রোগীকে বাইরের কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাননি বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নাজমুল আহসান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।