শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নাম

প্রাচ্যের ভেনিস গড়ার নেতৃত্বে কে?

জুন ১৬ ২০২৬, ২২:৩৫

ফাহিম ফিরোজ : দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে গঠিত হতে যাওয়া বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিইএ) ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে এ সংস্থার চেয়ারম্যান পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যেই চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এবায়দুল হক চাঁন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির এবং বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্য বলেন, “চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। একই সময়ে চেয়ারম্যানের নামও ঘোষণা করা হতে পারে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যানের তালিকায় বরিশালের ছয়জন নেতার নাম রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ড ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকেই নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস হয়। পরবর্তীতে আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দাবির পর বরিশালের জন্য একটি স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এবায়দুল হক চাঁন বলেন, “দল সুযোগ দিলে বরিশালকে প্রাচ্যের ভেনিস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। বরিশালের ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামো ও উন্নয়নের জন্য কী প্রয়োজন সে বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে বরিশালকে একটি আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।”

বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির বলেন, “দলের চেয়ারম্যান যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে আমি গুরুত্ব সহকারে সেই দায়িত্ব পালন করব। বরিশালের উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব।”

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া বলেন, “দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেবে। তবে দায়িত্ব পেলে বরিশালের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করব। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।”

অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় থাকা অপর নেতারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও দলীয় সূত্র বলছে, তাদের প্রত্যেকেই দায়িত্ব পেলে বরিশালের উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, বরিশাল মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে গঠিত হচ্ছে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এ অঞ্চলের জন্য কোনো স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গড়ে ওঠেনি। ফলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন ব্যবস্থাপনা, সড়ক অবকাঠামো, খাল-জলাশয় সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যকরভাবে কাজ শুরু করলে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক এলাকা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নেও গতি আসবে।

বর্তমানে প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। দ্রুত নগরায়ণের ফলে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। অবশেষে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি একটাই প্রশ্নে—বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে শেষ পর্যন্ত কার নাম ঘোষণা করা হয়।