ক্রীড়া ম্যানেজার হারুনকে ঘিরে নানা বিতর্ক
বরিশালে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে খেলোয়াড় বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
জুন ৩০ ২০২৬, ১৬:০৬
স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের নিবন্ধন শুরু হলেও বরিশালে খেলোয়াড় বাছাইকে ঘিরে আবারও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রথম আসরের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাইয়ে যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটিয়ে দল গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক খেলোয়াড় ও অভিভাবক। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের সম্মানী ভাতা, খাবার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বরিশাল জেলা ক্রীড়া অফিসের ম্যানেজার হারুন। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার একাধিক অভিভাবক ও খেলোয়াড় জানান, প্রথম রাউন্ড থেকেই বাছাই প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি ছিল। মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করেও অনেক মেধাবী খেলোয়াড় বাদ পড়েছে। অন্যদিকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশপ্রাপ্ত বা পরিচিতদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় দল গঠনের সময়ও একই চিত্র দেখা গেছে বলে তাদের অভিযোগ।
তাদের দাবি, বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তে জেলা ক্রীড়া অফিসের ম্যানেজার হারুনের প্রভাব ছিল এবং তার পছন্দের খেলোয়াড়দেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত প্রতিভাবান অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ সম্মানী ভাতা, খাবার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণেও স্বচ্ছতা ছিল না। এ বিষয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয় আসরের নিবন্ধন শুরু হওয়ায় একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন খেলোয়াড় ও অভিভাবকরা। তাদের দাবি, এবার জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাইয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে স্বাধীন পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ভিডিও রেকর্ডিং ও লিখিত মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করতে হবে।
এছাড়া প্রথম আসরের বাছাই কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের দিয়ে আগামীতে আর খেলোয়াড় বাছাই না করারও দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও খেলোয়াড়রা। তাদের মতে, নতুন ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন করা হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরবে এবং প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পাবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাসব্যাপী নিবন্ধন চলবে। ১ সেপ্টেম্বর ২০১২ থেকে ৩১ আগস্ট ২০১৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যুক্ত করতে স্কুল, ক্লাব ও জেলা ক্রীড়া অফিসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
প্রথম আসরের আটটি ইভেন্টের সঙ্গে এবার টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত হওয়ায় মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম আসরে দেশের ১০টি অঞ্চল থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিল।
সরকারের লক্ষ্য প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা।
তবে মাঠপর্যায়ে বাছাই নিয়ে অভিযোগ ওঠায় পুরো কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, মেধার পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি প্রাধান্য পেলে সরকারের এই প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসের ম্যানেজার হারুন বলেন, “বাছাইয়ে যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, স্বজনপ্রীতি বা প্রভাব বিস্তারের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খেলোয়াড়দের সম্মানী ভাতা, খাবার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণেও কোনো অনিয়ম হয়নি। পুরো বাছাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গেই সম্পন্ন করা হয়েছে।”
বরিশাল জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “স্বচ্ছ বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড় নির্বাচন করে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানো হয়। এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই। তারপরও যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”









































