ওজোপাডিকোর দুর্নীতি তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ: খুলনায় সিবিএ নেতাদের দৌড়ঝাঁপ
অক্টোবর ২৮ ২০২৫, ০০:৫০
স্টাফ রিপোর্টার :বরিশাল ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল হোতাদের বাঁচাতে মাঠে নেমেছেন সিবিএ নেতারা—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত থেকে অভিযুক্তদের রক্ষা করতে তারা খুলনায় গিয়ে তদবির করছেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সিবিএ নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা সাংগঠনিক কাজেই খুলনা সফরে গেছেন।
সম্প্রতি “অবৈধভাবে মেইন লাইনের তার কেটে সংযোগ দিল ওজোপাডিকো” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র–২ এর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদ প্রকাশের পরই ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক একটি দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল খালেককে প্রধান করে এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক মিস্ত্রিকে সদস্য করে এ কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে সরেজমিনে অনুসন্ধান সম্পন্ন করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। এসব ঘটনায় কোম্পানির ইলেকট্রিশিয়ান রেজাউল করিমসহ কয়েকজন কর্মচারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগমুহূর্তে অভিযুক্তদের বাঁচাতে তদবিরে নেমেছেন বরিশাল সিবিএর শীর্ষ নেতারা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন বরিশাল সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সহ-সভাপতি খিজির খন্দকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ বাবুল।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তারা বর্তমানে খুলনা ওজোপাডিকোর কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। দিনের মধ্যেই তাদের বরিশালে ফেরার কথা রয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, “আমরা সাংগঠনিক কাজে খুলনায় এসেছি। কাউকে বাঁচানোর জন্য বা তদন্ত প্রতিবেদনে প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়। আমাদের সংগঠনের নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে—দাপ্তরিক কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।”
একই বিষয়ে সিবিএ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, “চাকরির বা প্রশাসনিক কিছু বিষয়ে তদবির আমরা মাঝে মধ্যে করি, কিন্তু কাউকে বাঁচাতে তদন্তে হস্তক্ষেপ করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কমিটি সংক্রান্ত কিছু সাংগঠনিক সমস্যা রয়েছে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা করতে খুলনা এসেছি।”
অন্যদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুল খালেক জানান, “আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে কারও তদবিরের সুযোগই ছিল না।”
ওজোপাডিকোর এই তদন্তকে কেন্দ্র করে এখন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা—তদন্ত রিপোর্টের পরই প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাবে, নাকি প্রভাবশালী তদবিরে সত্য আড়াল হবে?










































