কাজ শুরুর আগেই হাতবদল, নিম্নমানের সংস্কার
বরিশাল জেলা পরিষদের ৫০ লাখ টাকার সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ
আগস্ট ২৩ ২০২৬, ১৩:০৮
স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার ও আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য বরাদ্দ ৫০ লাখ টাকার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজটি মেসার্স কায়েদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. স্বপন হাওলাদারের নামে বরাদ্দ হলেও অভিযোগ রয়েছে, কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদুর রহমান মাসুদ। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারি কার্যাদেশ কার্যত অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরিশাল জেলা পরিষদের মালিকানাধীন দক্ষিণ চকবাজারের দ্বিতল মার্কেট, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে জেলা পরিষদ মার্কেট, বান্দ রোডস্থ জেলা পরিষদ মার্কেট মেরামত ও সংস্কারসহ ফার্নিচার সরবরাহের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ পায় মেসার্স কায়েদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. স্বপন হাওলাদার।
অভিযোগ রয়েছে, কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন কাজ না করে সেটি বিএনপি নেতা মাকসুদুর রহমান মাসুদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর তার তত্ত্বাবধানেই বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা পরিষদের দক্ষিণ চকবাজার সংলগ্ন মার্কেটের সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দ প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন অনুসরণ না করেই বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কেটের ছাদে মাত্র নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। বাথরুম সংস্কারে টাইলস ব্যবহার করা হয়নি। ওয়েদার কোট না দিয়েই ভবনে রং করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন না করেই শুধু রং করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত কাজের তালিকায় না থাকা সত্ত্বেও মার্কেট এলাকায় নতুন একটি স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত প্রকল্পের বাইরে গিয়ে কীভাবে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু চকবাজারের মার্কেট নয়, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে জেলা পরিষদ মার্কেট, বান্দ রোডস্থ জেলা পরিষদ মার্কেট মেরামত কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে পরিচালিত এসব সংস্কারকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা অনুমোদিত নকশা ও কার্যপরিধির বাইরে কাজ করা হলে স্থাপনাগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় তদন্ত করা জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স কায়েদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. স্বপন হাওলাদার বলেন, “ঠিকাদারী কাজ বিক্রি করা হয়নি। বরং আমার লাইসেন্স থেকে মাকসুদুর রহমান মাকসুদ কাজটি পেয়েছেন। কাজে যদি কোনো অনিয়ম হয়, সে বিষয়ে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা বিএনপি নেতা মাকসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, “বৃষ্টির কারণে রঙের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া অনিয়ম হলে জেলা পরিষদ বিল আটকে দিত। এলাকার কিছু ছোট ভাই এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। আসলে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে
সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন ৫০ লাখ টাকার এ প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন এবং কাজের মান ও পরিধি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।










































