মাহে রবিউল আউয়াল নবী মাসের আহবান

নভেম্বর ২৯ ২০২৫, ১৩:১৩

মুহাম্মাদ আব্দুল আউয়াল : রবিউল আউয়াল মাসেই মানবতার মুক্তিদুত হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম ও মৃত্যু হয়েছিল। তাই এ মাস যেমন আনন্দের তেমনি শোকেরও আমাদের জানা দরকার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দায়িত্ব কি ছিল এবং তিনি আমাদেরকে কি করতে বলেছেন তা জানা, যা করতে বলেছেন তা করা।

তৎকালীন আরবের জাহেলিয়াত সমাজে যেখানে নারীর কোন মর্যাদা ছিল না, নারীদেরকে জীবিত কবর দেয়া হত, মানুষের কাছে মানুষকে গোলাম হিসেবে বিক্রি করা হত, অন্যায়, জুলুম, নিষ্পেষন, মারামারি, কাটাকাটি হত্যা, ধর্ষন ইত্যাদি ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। মানুষ (আল্লাহ) স্রষ্টার গোলামির পরিবর্তে যার যার নিজের নফস শয়তান ও অন্য মানুষের গোলামি করত।

এই ধরনের একটি পরিবেশ পরিস্থিতি চলার সময় এর পরিবর্তন করে একটি শান্তিময় সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং মানুষকে আল্লাহর গোলামে পরিনত করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সত্য দ্বীন ও হেদায়েত সহকারে প্রেরন করেছিলেন।

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম মানুষের মাঝে দাওয়াতী কাজ করে মানুষকে তার দলভূক্ত করে সংগঠিত করে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মেধা যোগ্যতা সময় ব্যয় করে জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে আল্লাহর দেয়া পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত প্রচলিত ইসলাম বিরোধি মানব রচিত আইন কানুন ও মতাদর্শ এবং অন্যান্য জীবন ব্যবস্থার উপর বিজয়ী করে কুরআনের আইন দ্বারা রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনা করে একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা উপহার দিয়েছিলেন এবং নারীকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ যার যার অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করেছিলেন। কালের বিবর্তনে সে সোনালী সমাজ আজ আর বিদ্যমান নেই। মানুষ শান্তির অন্বেষায় নতুন করে তৈরি করেছেন নানা মত ও পথ এবং মতাদর্শ আইন কানুন কিন্তু এই গুলো মানুষকে প্রকৃত শন্তি দিতে পারে নাই, যা দিবালোকের মতো সাবার কাছে স্পস্ট।

তাই দুনিয়ায় শান্তির সামাজ ফিরে পেতে হলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে সেই রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের দিকে। তাই আসুন পৃথিবীতে বিশেষ করে আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশে শাস্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করি যাতে কুরআনের বিধান দ্বারা রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালিত হয় এবং মানুষ চলে, যাতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ যার যার অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।

উম্মতে মুহাম্মাদী হিসেবে মুসলমানদের দায়িত্ব হচ্ছে ইসলামকে বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়মতান্ত্রিক পন্থা, (গনতান্ত্রিক পদ্ধতি) ব্যবহার করে চেষ্টা করা, এই চেষ্টা করা ফরজ, ইহাই জান্নাত পাওয়ার একমাত্র পথ। তাই আসুন সংগঠনবন্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জান, মাল, সময়, মেধা, যোগ্যতা ব্যয় করে দ্বীনকে বিজয়ী করার ইকামতের দ্বীনের ফরজ কাজ করি। সাথে সাথে আল্লাহর অন্যান্য হুকুমগুলো পালনের চেষ্টা করি। যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে দুনিয়ায় শান্তি ও অখিরাতে মুক্তি পাই।

 

মুহাম্মাদ আব্দুল আউয়াল

ফকিরবাড়ী রোড, ১৭নং ওয়ার্ড, বিসিসি, বরিশাল।