হামলা–মামলা হুমকির অভিযোগ নিয়ে ছাত্রদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

নভেম্বর ৩০ ২০২৫, ১৩:৫৪

স্টাফ রিপোর্টার : জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে একই পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ শাখার এক সভাপতি। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে বাকেরগঞ্জের বিলকিস জাহান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি ফেরদৌস হাওলাদার এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

ফেরদৌস হাওলাদার তার লিখিত বক্তব্যে জানান, তাদের গ্রামের প্রতিপক্ষ রুস্তম আলী হাওলাদারের ছেলে—খোকন হাওলাদার, কাওসার হাওলাদার, সুলতান হাওলাদার ও ফরহাদ হাওলাদারের সাথে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এসব ঘটনার জেরে দায়ের করা জিআর মামলা নং ৯২/২০২০–এ রুস্তম আলী হাওলাদার সাজাপ্রাপ্ত হলে প্রতিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি তুলে নিতে চাপ দিতে থাকে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার চাচা মোহাম্মদ আমির হোসেন হাওলাদার এশার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২২ নভেম্বর অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।

পরদিন ২৩ নভেম্বর আবারও প্রতিপক্ষ তাদের ঘরের সামনে এসে মামলা তুলে নিতে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেয়। পরিবার নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ায় ২৪ নভেম্বর তিনি বাকেরগঞ্জ থানায় জিডি (নং—১৪৪২) করেন।

ফেরদৌস দাবি করেন, জিডি করার পর প্রতিপক্ষ বেপরোয়া আচরণ শুরু করে এবং ২৫ নভেম্বর মনগড়া ঘটনা সৃষ্টি করে সালাম হাওলাদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম ৬ জনের নামে শ্লীলতাহানি ও হামলার মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। অথচ ঘটনার সময় তিনি ও তার দুলাভাই আসাদুজ্জামান খান লিমন বরিশাল শহরে যুবদলের কর্মসূচিতে ছিলেন। তাদের অবস্থান মোবাইল লোকেশন ও ছবি–ভিডিও দ্বারা সহজেই প্রমাণ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

মামলার অন্য আসামিদেরও ঘটনার সময় নিজ নিজ স্থানে উপস্থিতি সংক্রান্ত ভিডিও, নথিপত্র ও কর্মস্থলের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন ফেরদৌস হাওলাদার। তিনি আরও বলেন, অতীতের একাধিক অভিযোগ, জিডি ও জমি বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পরিবারকে টার্গেট করছে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, খোকন হাওলাদার দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকার পতনের পর হঠাৎ বিএনপি ও যুবদলের সঙ্গে ওঠাবসা শুরু করেছে। রাজনৈতিক রং বদল করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জমিদখলের উদ্দেশ্যে এই চক্রটি সক্রিয় হয়েছে বলে দাবি তার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, চলমান সব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত। হামলা, হুমকি ও মিথ্যা মামলার দায়ীদের আইনের আওতায় আনা। তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিএনপি–যুবদল নেতাদের প্রতি আহ্বান—রং বদলানো ব্যক্তিরা যেন দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট করতে না পারে।

ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে সত্য প্রকাশে সহযোগিতার জন্য সাংবাদিকদের পতি আহ্বান জানান।