পটুয়াখালীতে জুলাই হত্যা মামলা বাণিজ্য, বিএনপির ২ নেতার পদ স্থগিত

নভেম্বর ২৯ ২০২৫, ১৮:৪৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : জুলাই হত্যা মামলাকে ঘিরে ‘বাণিজ্যিক কার্যক্রমে’ জড়িত থাকার অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা বিএনপি।

দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন গোপন থাকা এ সিদ্ধান্ত সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সদর উপজেলা বিএনপি সদস্য ও মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফের পদ স্থগিত এবং সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানকে তার পদসহ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে সিদ্ধান্তটি এতদিন দলীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টোটন বলেন, ‘জুলাই হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে মামলার প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এগুলো দলের নিয়ম, আদর্শ আর সাংগঠনিক শৃঙ্খলার স্পষ্ট লঙ্ঘন।’ এমন আচরণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টোটন আরও জানান, ‘২১ সেপ্টেম্বর দুজনের কাছেই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর তারা লিখিত জবাব দিলেও দল সেটিকে সন্তোষজনক মনে করেনি। পরে তদন্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

জুলাই শহীদ রায়হানের পরিবার জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার মেরুল বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে রায়হান নিহত হওয়ার পর থেকেই তারা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে আসছেন। কিন্তু মামলাটিকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের টানাপোড়েন, রাজনৈতিক স্বার্থ আর অস্পষ্ট লেনদেনের অভিযোগ পুরো ঘটনাটিকে জটিল করে তুলেছে।

শহীদ রায়হানের বাবা কালাম হোসেন জানান, ঘটনার আট মাস পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তারা মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মৃত্যুসনদ গ্রহণের সময় অ্যাডভোকেট মশিউর তার স্বাক্ষর নেন এবং পরে সেই কাগজ ব্যবহার করে একটি মামলা প্রস্তুত করা হয়।

তার কথায়, মামলায় যাদের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি তাদের কাউকেই চেনেন না। সেই সঙ্গে মামলাকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের কথাও তিনি শুনেছেন, যা তাকে আরও হতবাক করেছে। অভিযুক্ত দুই নেতার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।