ভোলায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে ভাঙচুর

মে ২২ ২০২৬, ২২:০১

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে ইসলামিয়া মেডিকেল সেন্টার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ এসে হাসপাতালের অবরুদ্ধ চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্ধার করে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টার দিকে ভোলা শহরের মাছুমা খানম স্কুল রোড এলাকায় অবস্থিত ইসলামিয়া মেডিকেল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও নিহত শিশুর পরিবার জানায়, সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের রাড়িরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. পারভেজের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী হোসনে আরা বেগম জ্বরে আক্রান্ত হলে বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মনিরা সুলতানা প্রসবের নির্ধারিত সময়ের ১৬ দিন আগে শুক্রবার বিকেলে সিজারিয়ান অপারেশন করেন। প্রসূতির স্বামী মো. পারভেজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, রোগী শারীরিকভাবে সিজারের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।

তাড়াহুড়ো করে অস্ত্রোপচার করানো হয় এবং ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। নিহত নবজাতকের ফুফু খাদিজা আক্তার জানান, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হোসনে আরার খিচুনি দেখা দেয়।

কিন্তু খিচুনির চিকিৎসা না করে চিকিৎসক সিজার করেন। তিনি আরও জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর চিকিৎসক বের হয়ে রোগীর স্বজনদের বলেন, কেনো আরও আগে সিজার করানো হয়নি। পরে তাদের জানানো হয় নবজাতক মারা গেছে।

এছাড়া প্রসূতির অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে দাবি করেন তিনি। আড়ত শ্রমিক পারভেজ ও হোসনে আরা দম্পতির এটি দ্বিতীয় সন্তান ছিল। এর আগে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে হাসপাতালের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

পরে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগীকেও বের হয়ে যেতে দেখা যায়। মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রোগী ভর্তি হওয়ার পর রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় স্বজনদের সিদ্ধান্তে শুক্রবার সিজার করা হয়।

এটি ছিল রোগীর দ্বিতীয় সিজার। অস্ত্রোপচারের আগেই চিকিৎসক রোগীর পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে রোগীর অবস্থা খারাপ। পরে তাদের সম্মতিতেই অপারেশন করা হয়। নবজাতকের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ভোলা হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়।’

ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সরেজমিন তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।