শেবাচিম হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যু

লাশ দাফন নিয়ে জামাই-শ্বশুরের টানাটানি

মে ২২ ২০২৬, ২২:১৩

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লাশ দাফন নিয়ে স্বামী ও বাবার পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা, টানাটানি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতাল চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এক বছর পূর্বে পারিবারিক সম্মতিতে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর ভোলানাথ গ্রামের বাবুল হাওলাদারের মেয়ে সাথী আক্তারের (২০) সাথে বরিশাল নগরীর রসুলপুর এলাকার সোহাগের ছেলে সুমন ফরাজীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সাথী স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন। তবে বিয়ের শুরু থেকেই জামাতা সুমনের সাথে শ্বশুর বাবুল হাওলাদার ও তার পরিবারের মধ্যে তীব্র পারিবারিক মনোমালিন্য চলছিল। বিগত এক বছরে শ্বশুর মাত্র দুইবার মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে এসেছিলেন।
নিহতের পরিবার জানায়, সাথী আক্তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতালে ভর্তির কথা ছিল। তবে আজ সকাল থেকে সাথীর প্রসব বেদনা তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মাথায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সাথী।
সাথীর মৃত্যুর পর পরই লাশ নিজ নিজ বাড়ি নিয়ে যাওয়া এবং দাফন করাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হয়। মেয়েপক্ষ এবং ছেলেপক্ষ লাশের দাবি নিয়ে হাসপাতাল চত্বরেই সংঘর্ষ ও টানাটানিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এতে হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহতের স্বামী সুমন ফরাজী জানান, “আমি আমার স্ত্রীকে অত্যন্ত ভালোবাসতাম। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাদের সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ রাখেনি। একজন নারীর শেষ বিদায়ের সব অধিকার তার স্বামীর। আমার স্ত্রী মারা গেছে, আমি তাকে আমার দাদীর কবরের পাশে দাফন করতে চাই।
অন্যদিকে, নিহতের বাবা বাবুল হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার মেয়ে মারা গেছে, আমরা তার লাশ আমাদের নিজেদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করতে চাই। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল জানান, লাশ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাটানি হাতাহাতি হয়েছে। আমাদের আনসার সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করে লাশ নেয়ার ব্যবস্থা করে দেন।