আম-কাঁঠাল-লিচুর প্রাচুর্যে বরিশাল, বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

জুন ০৯ ২০২৬, ২২:৩৩

ফাহিম ফিরোজ : গাছে গাছে ঝুলছে পাকা আম, সুগন্ধ ছড়াচ্ছে কাঁঠাল, বাজারজুড়ে কালো রঙের রসালো জাম আর লাল টুকটুকে লিচুর সমারোহ। মধুমাসের আগমনে যেন ফলের রাজ্যে পরিণত হয়েছে বরিশাল বিভাগ। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা এবং রোগবালাইয়ের কম আক্রমণে এ বছর বিভাগের ছয় জেলায় আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন খুশি কৃষক, অন্যদিকে বাজারে দেশীয় ফলের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারাও।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিভাগের ছয় জেলায় ৩ হাজার ২৩৩ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদিত হয়েছে ৫২ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন আম। আম উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে পটুয়াখালী জেলা। জেলাটিতে একাই উৎপাদন হয়েছে ২৪ হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন আম।

অন্যদিকে জাতীয় ফল কাঁঠালের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮১৬ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন। কাঁঠাল উৎপাদনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভোলা জেলা, যেখানে উৎপাদিত হয়েছে ১৬ হাজার ৫০ মেট্রিক টন কাঁঠাল।

এছাড়া বিভাগের ১৮৮ হেক্টর জমিতে জামের আবাদ করে উৎপাদন করা হয়েছে ১ হাজার ৪২৩ মেট্রিক টন জাম। উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঝালকাঠি জেলা। সেখানে উৎপাদিত হয়েছে ২৪৩ মেট্রিক টন জাম।

লিচুর ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক ফলন হয়েছে। ২০৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করে উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৭০ মেট্রিক টন লিচু। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০২ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছে পিরোজপুর জেলায়।

বরিশাল নগরীর ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, “এবার ফলের মৌসুম বেশ ভালো যাচ্ছে। আম, কাঁঠাল, লিচুসহ সব ধরনের দেশীয় ফলের সরবরাহ অনেক বেশি। ফলে দামও তুলনামূলক সহনীয় রয়েছে। প্রতিদিন বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ ফল বাজারে আসছে।”

মৌসুমি ফল বিক্রেতা নান্টু মিয়া বলেন, “দেশীয় ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখন অনেক বেড়েছে। সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় থাকে। বিশেষ করে আম, লিচু ও জামের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সরবরাহ ভালো থাকায় বিক্রিও সন্তোষজনক।”

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার বলেন, “বরিশাল অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার ফল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উৎপাদিত ফল স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি শুধু কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নই ঘটাচ্ছে না, একই সঙ্গে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফল চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশাল অঞ্চলে ফল চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সহজ বাজারজাতকরণ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা গেলে এ অঞ্চলের মৌসুমি ফল দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। মধুমাসের এই প্রাচুর্য তাই শুধু কৃষকের হাসির কারণ নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির জন্যও এক ইতিবাচক বার্তা।