বরিশালে নেই কর্মজীবী নারী হোস্টেল, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা
এপ্রিল ২৩ ২০২৬, ১১:৪১
ফাহিম ফিরোজ, বরিশাল : বরিশাল মহানগরীতে কর্মজীবী নারীদের জন্য এখনো কোনো সরকারি মহিলা হোস্টেল বা নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে কাজের প্রয়োজনে নগরীতে আসা নারীরা প্রতিদিন যাতায়াত, বাসস্থান সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন বাস্তবতায় বরিশালে একটি কর্মজীবী নারী হোস্টেল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
গত ১৬ এপ্রিল নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বরিশাল মহানগরীতে কর্মজীবী নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আধুনিক মহিলা হোস্টেল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থানের তাগিদে বহু নারী দূরদূরান্ত থেকে বরিশালে এলেও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসনের অভাবে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যআয়ের নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
শ্রমজীবী নারীদের অভিজ্ঞতাও একই চিত্র তুলে ধরে। বরিশাল কাউনিয়ায় অবস্থিত ফরচুন সুজ কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা বিথী আক্তার বলেন, “ঝালকাঠি থেকে প্রতিদিন বরিশাল কাউনিয়ায় কাজে আসতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সময়মতো কাজে পৌঁছানো কষ্টকর। একটি মহিলা হোস্টেল নির্মিত হলে আমাদের মতো কর্মজীবী নারীরা নিরাপদে থাকতে পারবে।”
বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকার কর্মজীবী নারী সোনালী বেগম বলেন, “বরিশাল নগরীতে এখন পর্যন্ত কোনো মহিলা হোস্টেল নেই। তাই বাইরে থেকে এসে কাজ করা নারীদের জন্য নিরাপদ থাকার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় বাসা নেন বা প্রতিদিন দূরপাল্লার যাতায়াত করেন।”
নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ মে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে এক বিশোর্ধ্ব নারী ধর্ষণের শিকার হন। তিনি বিসিক শিল্পনগরীর একটি জুতা কারখানায় কাজ করতেন। রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে গণধর্ষনের শিকার হন। ঘটনাটি কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসনের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর অনেক সড়ক ও অলিগলি নারীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে। তাই কর্মস্থলের কাছাকাছি একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আধুনিক মহিলা হোস্টেল গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি।
এতে নারীদের যাতায়াতের ঝুঁকি কমবে, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বরিশালে কর্মজীবী নারীদের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন করবে।









































