গৌরনদীতে অপচিকিৎসায় গৃহবধূর গর্ভের সন্তান মৃত্যুর অভিযোগ

মে ১৮ ২০২৬, ২২:৪০

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালের গৌরনদীতে অপচিকিৎসার কারণে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (১৬ মে) ভুক্তভোগী রুনা আক্তারের (৩২) বাবা উপজেলার আশোকাঠি গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মৌরী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- ক্লিনিকটির আরএমও ডা. মো. জামাল হুসাইন, মালিক মাহমুদুল হাসান মুহিত এবং ম্যানেজার লিটন। ভুক্তভোগীর মা মেরিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রুনার পেটে ব্যথা শুরু হলে ৩ মে সকালে তাকে গৌরনদী মৌরী ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

সেখানে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করার জন্য কোনো চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় কর্তব্যরত গাইনি চিকিৎসক ডা. মো. জামাল হুসাইন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ওষুধ লিখে দেন এবং তা কিনে আনতে বলেন। পরে ওষুধ ও স্যালাইন প্রয়োগের পর রুনার শরীরে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হয়।

পরে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করে জানানো হয়, গর্ভের সন্তান আগেই মারা গেছে। এরপর রোগীকে দ্রুত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন যে গর্ভের সন্তান মারা গেছে। পরে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মৃত নবজাতক বের করা হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

অভিযুক্ত ডা. মো. জামাল হুসাইন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সঠিক চিকিৎসাই দিয়েছি। বিষয়টি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মীমাংসা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ক্লিনিকের মালিক মাহমুদুল হাসান মুহিতও একই দাবি করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, ভুক্তভোগীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিলেও পরদিন তিনি থানায় এসে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার অনুরোধ করেন। তাই এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।