বাকেরগঞ্জে প্রতারণার দায় চাপিয়ে চৌকিদারকে মারধর, থানায় অভিযোগ

জুলাই ০১ ২০২৬, ১০:৪৪

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালের বাকেরগঞ্জে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে দেওয়া একটি ফোনকলের জেরে একজন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)কে মারধর এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২৮ জুন বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন চরাদী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫)।

লিখিত অভিযোগে রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরাদী ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৬ জুন, ১০ মহররম উপলক্ষে রোজা রেখে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে নিজেকে বাকেরগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার পরিচয় দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পংকজ রায়ের মোবাইল নম্বর চান। তার কাছে নম্বর না থাকায় ওই ব্যক্তি পংকজ রায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে বলেন।

সরল বিশ্বাসে তিনি পংকজ রায়ের বাড়িতে গিয়ে নিজের মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা বলিয়ে দেন। পরে রাতে তাকে খবর দিয়ে চরাদী ইউনিয়নের পকথীশীল স্ট্যান্ড এলাকায় একটি দোকানের সামনে ডেকে নেওয়া হয়।

সেখানে পৌঁছানোর পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে পংকজ রায়সহ অভিযুক্তরা এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জন তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার মাথা, পিঠ, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা দাবি করেন, যে ব্যক্তির সঙ্গে তিনি মোবাইলে কথা বলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি একজন প্রতারক এবং তার কাছে বিকাশে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। এজন্য রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই প্রতারকের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তার ওপর দায় চাপানো হয়।

রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি পুলিশকে জানালে চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু পরে অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে সালিশের নামে তার ওপর ২০ হাজার টাকা জরিমানা চাপিয়ে দেন এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা ও এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন।

তিনি বলেন, “আমি থানার সেকেন্ড অফিসার পরিচয়ে ফোন পাওয়ায় সরল বিশ্বাসে শুধু মোবাইলে কথা বলিয়ে দিয়েছিলাম। অথচ প্রকৃত প্রতারককে শনাক্ত না করে আমাকে মারধর করা হয়েছে এবং অন্যায়ভাবে জরিমানা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সাইদুল বলেন, “বৃষ্টির কারণে এখনও ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। তবে চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”