লোনা পানির রাজনীতিতে ধ্বংস সাতক্ষীরা জনপদ
সেপ্টেম্বর ০৫ ২০২৬, ১২:২৩
মোঃ খলিলুর রহমান : চিংড়ি চাষের কারণে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। চিংড়ি চাষের জন্য ঘের মালিকরা (যাদের অনেকেই প্রভাবশালী এবং বহিরাগত) জোর করে বেড়িবাঁধ কেটে বা পাইপ বসিয়ে লোকালয়ে নোনা পানি ঢুকিয়ে দেয়। একবার কোনো জমিতে নোনা পানি ঢুকলে সেই জমি বছরের পর বছর ধান বা অন্য কোনো ফসল চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ফলে সাধারণ ক্ষুদ্র কৃষকেরা নিজেদের জমিতে আর চাষ করতে পারেন না। চিংড়ি ঘেরের লোনা পানি মাটির নিচে চুইয়ে আশেপাশের মিষ্টি পানির পুকুর এবং নলকূপের পানিকে নোনা ও বিষাক্ত করে তোলে। খাওয়ার ও রান্নার পানির জন্য ঘরের নারীদের কলসি কাঁকে তীব্র রোদে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে মিষ্টি পানির উৎস বা ফিল্টারে যেতে হয়।
এই শারীরিক পরিশ্রম তাদের স্থায়ীভাবে অসুস্থ করে তোলে। নোনা পানির কারণে মাঠে কোনো ঘাস জন্মায় না, আর ধান চাষ না হওয়ায় খড় পাওয়া যায় না। গো খাদ্যের তীব্র সংকটের কারণে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার মানুষ তাদের আয়ের অন্যতম উৎস গরু, মহিষ ও ছাগল পালন প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।
এমনকি গবাদি পশুর পানের জন্যও মিষ্টি পানি পাওয়া যায় না। নোনা পানির সংস্পর্শে এসে নারিকেল, সুপারি, আম, জামের মতো ফলদ গাছ এবং সাধারণ গাছপালা মরে যাচ্ছে। নোনা পানিতে চরে বেড়ানোর কারণে হাঁস-মুরগির নানা রোগ হয় এবং এগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
ঐতিহ্যবাহী কৃষি বা ধান চাষে যেখানে বিঘাপ্রতি অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হতো, চিংড়ি ঘেরে সেখানে মাত্র ২-৩ জন পাহারাদার হলেই চলে। ফলে হাজার হাজার দিনমজুর বেকার হয়ে পড়েছেন। উপায় না পেয়ে অনেক পরিবার তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি ও জমি ঘের মালিকদের কাছে নামমাত্র মূল্যে লিজ বা বিক্রি করে দিয়ে ঢাকা, খুলনা বা অন্যান্য শহরে গিয়ে বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং রিকশা চালানো বা দিনমজুরের কাজ করছেন।
এক কথায় বলতে গেলে, কয়েকজন চিংড়ি ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভের মাশুল দিতে হচ্ছে সাতক্ষীরার লাখ লাখ সাধারণ মানুষকে, যাদের জীবন আজ সুপেয় পানি আর একটুখানি সবুজ প্রকৃতির জন্য হাহাকার করছে। লোনা পানির রাজনীতে ধংস সাতক্ষীরা জনপদ।
মোঃ খলিলুর রহমান
গণমাধ্যমকর্মী










































