রোগীর আস্থার জায়গায় নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অমিতাভ সরকার, মানবিক আচরণে প্রশংসিত

সেপ্টেম্বর ০৩ ২০২৬, ১৯:৪৪

স্টাফ রিপোর্টার : চিকিৎসা শুধু রোগ নিরাময়ের বিষয় নয়—রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং মানবিক আচরণের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাও চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বরিশালে এমনই মানবিক আচরণ ও চিকিৎসা দক্ষতার কারণে রোগী ও স্বজনদের কাছে আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকার।

মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও স্ট্রোকজনিত বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় কাজ করছেন তিনি। রোগীদের সঙ্গে সদালাপী আচরণ, মনোযোগ দিয়ে সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছেন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার রোগীরা।

ডা. অমিতাভ সরকার এমবিবিএস ও এমডি (নিউরোলজি) ডিগ্রিধারী। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় যুক্ত রয়েছেন তিনি। তার চিকিৎসা পরামর্শ নিতে আসা রোগীদের মধ্যে মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, স্ট্রোক, মৃগীরোগ, মাথা ঘোরা ও ভার্টিগো, নিউরোপ্যাথি, স্নায়ুবিক ব্যথা, পারকিনসন্সসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।

রোগীদের অভিযোগ-অনুযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সহজভাবে চিকিৎসা বিষয়টি বোঝানোর বিষয়টি তার চিকিৎসাসেবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে জানান অনেক রোগী। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং তাদের মানসিকভাবে সাহস জোগানোর বিষয়টিও প্রশংসিত হচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আরমান বলেন, “আমার অনেক সমস্যা ছিল। অমিতাভ সরকার স্যারের চিকিৎসা নিয়ে এখন ভালো আছি। আবারও দেখা করতে এসেছি। তার কথা ও আচরণ খুব ভালো। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি রোগীর সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন চিকিৎসকের দক্ষতার পাশাপাশি রোগীর প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীল আচরণও চিকিৎসাসেবার মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডা. অমিতাভ সরকারের ক্ষেত্রেও রোগীদের সঙ্গে তার আচরণ অনেককে চিকিৎসার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সহায়তা করছে বলে তারা মনে করেন।

জটিল স্নায়ুরোগে চিকিৎসাসেবা:

ডা. অমিতাভ সরকার মূলত নিউরোলজি ও নিউরোমেডিসিনের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। স্ট্রোক-পরবর্তী জটিলতা, মাইগ্রেন, স্নায়ুবিক ব্যথা, নিউরোপ্যাথি, মৃগীরোগ, পারকিনসন্স ডিজিজ, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, মস্তিষ্কের বিভিন্ন জটিলতা, মাথা ঘোরা, স্মৃতিভ্রংশ এবং স্নায়ুবিক সংক্রমণসহ বিভিন্ন সমস্যায় রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

শিক্ষক হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। তার অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া চিকিৎসকদের একটি অংশ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাসেবায় যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বরিশালের বেলভিউ হাসপাতালে তার নিয়মিত চেম্বার রয়েছে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি জটিল রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতালে পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি।

রোগীর মনোবল ফেরাতেও গুরুত্ব:

চিকিৎসকদের মতে, স্নায়ুরোগে আক্রান্ত অনেক রোগী শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে রোগীর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তার উদ্বেগ ও ভয়কে গুরুত্ব দেওয়াও প্রয়োজন। ডা. অমিতাভ সরকার রোগীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা দেন বলে তার রোগীদের ভাষ্য।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরিতেও তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। স্নায়ুরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অপপ্রচারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ রোগী-স্বজনরা:

এদিকে সম্প্রতি ডা. অমিতাভ সরকারকে নিয়ে একটি মহল বিভিন্ন অপপ্রচার, ভিত্তিহীন অভিযোগ ও গুজব ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার অনুসারী ও কিছু রোগী-স্বজনের দাবি, জনপ্রিয় এই চিকিৎসকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোগী ও স্বজনদের অনেকেই মনে করেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। ভিত্তিহীন প্রচারণার মাধ্যমে একজন চিকিৎসকের দীর্ঘদিনের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা কাম্য নয়।

সব মিলিয়ে চিকিৎসা দক্ষতার পাশাপাশি রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, ধৈর্য ও আন্তরিকতার কারণে ডা. অমিতাভ সরকার বরিশাল অঞ্চলের অনেক রোগীর কাছে একজন পছন্দের নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন—এমনটাই জানিয়েছেন তার চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অনেকে।