গণশুনানিতে দুই অসহায় মানুষের পাশে বরিশাল জেলা প্রশাসন
সেপ্টেম্বর ০৩ ২০২৬, ১৯:৩১
স্টাফ রিপোর্টার : জেলা প্রশাসনের নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও আবেদন সরাসরি গ্রহণ করে তা নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রাপ্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি অন্যান্য আবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
গণশুনানিতে আসা আবেদনকারীদের মধ্যে মোঃ আসাদুজ্জামান খাজা গত ২৮ জুলাই চৌমাথা বাজার এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পা পিষ্ট হয়ে গেলে পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজনে তা কেটে ফেলতে হয়। বর্তমানে তিনি শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অসহায় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এদিকে স্বামীহারা হাওয়া আক্তার এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাঁর মেয়ে ফাতিমা তুজ জহুরা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন কেবল অর্থের অভাবে থেমে না যায়—এমন মানবিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গণশুনানিতে আগত প্রতিটি মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে সামান্য আর্থিক সহায়তাও হয়ে উঠতে পারে চিকিৎসার সুযোগ, বেঁচে থাকার অবলম্বন কিংবা ভবিষ্যতের স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার সাহস।
জেলা প্রশাসন মনে করে, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের কষ্ট লাঘবে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করাও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা কিংবা ন্যূনতম জীবনযাপনের প্রয়োজন যখন আর্থিক সংকটে বাধাগ্রস্ত হয়, তখন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কথা সরাসরি শোনার এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মানুষের আস্থা অর্জন, তাঁদের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানো এবং জীবনে সামান্য হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।








































