জমি লিখে না দেয়ায় বৃদ্ধ মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন ছেলে
জুলাই ২৫ ২০২৬, ২২:২৯
বরগুনা প্রতিনিধি : বরহুনার আমতলীতে জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় ৮০ বছরের বৃদ্ধা শ্রবণ প্রতিবন্ধি মা আনোয়ারা বেগমকে ছেলে হেলাল হাওলাদার ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত হেলাল হাওলাদার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌর শহরের লোচা গ্রামে শনিবার দুপুরে।
জানাগেছে, উপজেলার পৌর শহরের লোচা গ্রামের আবুল হাসেম হাওলাদার ২০০৫ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর পরে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম পাঁচ ছেলেকে খেয়ে না খেয়ে বড় করে তোলেন। তিন বছর আগে বৃদ্ধা মা তার পাঁচ ছেলের নামে লিখে দেয়। এতে ছেলেরা পর্যায়ক্রমে মায়ের ভরণ-পোষণ দেন। কিন্তু চতুর্ত ছেলের বাসার সামনে কিছু জমি আছে, ওই জমি মাকে তার নামে লিখে দিতে বলেন। কিন্তু মা এতে রাজি হয়নি।
শনিবার সকালে দুপুরে ছেলে হেলাল হাওলাদারের বাসায় যান মা আনোয়ারা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলাল মাকে ঘাঁড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন। প্রায় ঘন্টাখানেক মা বৃষ্টিতে ভিজে তাকে ঘরে তুলতে অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু বৃদ্ধা মায়ের ভাঙ্গা গলার কান্না তার মন গলাতে পারেনি এমন অভিযোগ বৃদ্ধা মায়ের। খবর পেয়ে তার ভাইয়ের ছেলে আবু সালেহ মুছা তাকে উদ্ধার করে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়।
আবু ছালেহ মুছা বলেন, আমার ফুফু তার পাঁচ ছেলেকে জমি লিখে দিয়েছেন। কিছু জমি আছে, ওই জমি তার চতুর্থ ছেলে হেলাল তাকে লিখে দিতে বলেন। কিন্তু ফুফু জমি লিখে দিতে রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে হেলাল তাকে ঘাঁড় ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগম ভাঙ্গা গলায় কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, পোলায় আর বৌ মোরে ধাক্কা দিয়া ঘরে গোনে নামাইয়া দেছে। মুই দেওউতে ভিইজ্যা কান্না-কাটি হরছি। হ্যারপরও মোরে পোলায় ঘরে উডায় নাই। মুই এইয়্যার বিচার চাই।
এ বিষয় ছেলে হেলাল হাওলাদার মাকে ঘর থেকে বের করে দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, পথের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা রয়েছে। তাই আমার বিরুদ্ধে অন্য চার ভাই ও মামারা মিলে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ বায়েজিদ বলেন, মায়ের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।









































