বরিশালে দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকের দুর্নীতিবিরোধী শপথ

জুলাই ২৫ ২০২৬, ২২:৫০

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কোনো একক সংস্থার উদ্যোগ নয়, বরং নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের চর্চাই পারে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বরিশালের প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।

শনিবার (২৫ জুলাই) নগরীর বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) এবং অ্যাকটিভ সিটিজেনস গ্রুপ (এসিজি)-এর যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সনাক বরিশালের সভাপতি তুনু রানী কর্মকারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য কাজী সেলিনা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন টিআইবির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মো. ফিরোজ উদ্দিন, সনাকের উপদেষ্টা আনোয়ার জাহিদ, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) গাজী জাহিদ হোসেনসহ সনাক, ইয়েস ও এসিজির প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন সহজ নয়। সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের নিজেদের মধ্যেই সততা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার চর্চা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়িত ‘প্যাকটা’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও পরিবেশ খাতে পরিচালিত বিভিন্ন নাগরিক উদ্যোগের অগ্রগতি, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতি প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগ জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সনাক সভাপতি তুনু রানী কর্মকার বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তরুণদের নেতৃত্বে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার শপথ গ্রহণ করেন এবং একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।