এক মাসে ৫ খুন ও ১৪ ধর্ষণ, ৫৪ নারী শিশু নির্যাতন মামলা
বরিশালে মাদক-হত্যা-নারী শিশু নির্যাতনে বাড়ছে উদ্বেগ
জুলাই ১৯ ২০২৬, ২২:৪৩
ফাহিম ফিরোজ : বরিশালে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ প্রবণতা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতির অভিযোগে অপরাধীদের মধ্যে সাহস বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। বরিশাল জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। রবিবার (১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসক মো: মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে আইন শৃঙ্খলা কমিটি মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশের জুন-২০২৬ মাসের তুলনামূলক অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাসে বরিশাল জেলা ও মহানগর এলাকায় মোট পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় চারটি এবং মহানগর এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় জুন মাসে মোট ১৬২টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে একটি খুন, একটি দস্যুতা, নারী ও শিশু নির্যাতনের ১৭টি, চুরি ও সিধেল চুরি ৮টি, ৬টি ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য আইনে ৭৩টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৫৫টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বরিশাল জেলায় জুন মাসে মোট ২৩৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা ৪টি, ধর্ষণ ৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৩৭টি, অপহরণ ১টি, চুরি ও সিধেল চুরি ১০টি, মাদকদ্রব্য আইনে ৬১টি, বিস্ফোরক আইনে ১টি, দস্যুতা ২টি এবং অন্যান্য অপরাধে ১০৮টি মামলা হয়েছে।
তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মে মাসের তুলনায় জুনে কিছু অপরাধ কমলেও হত্যা, নারী নির্যাতন, মাদক ও বিভিন্ন সাধারণ অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে মাদকসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা এখনও সবচেয়ে বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার ও জনসচেতনতা বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছেন তারা।
সভায় জেলা প্রশাসক মো: মামুন খন্দকার বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন বাহিনীর সার্বক্ষণিক টহল নিশ্চিত করতে হবে। কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, ত্রিশ গোডাউন বরিশালের অন্যতম একটি পর্যটন এলাকা। সেখানে ঘুরতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষভাবে নজরদারি করতে হবে, যেন কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদকের আসর বসতে না পারে। এছাড়া ওই এলাকার ব্যবসায়ী এবং স্পীড বোট ও নৌকা চালকরা যেন পর্যটকদের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যম না হয়, সে বিষয়ে নজরধারির নির্দেশ দেন।








































