বরিশালে মারধর ও লুটপাটের মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ
সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২৬, ২২:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ শুনানির দিনে বাদী মো. সোহেল আরমান তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজি দেন। পরে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৩টার দিকে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে বাদীর বসতঘরের সামনে তার সন্তান সালমান ফারসী, তানজিলা ও তানহা ইসলামের সঙ্গে আসামিদের সন্তানদের খেলাধুলা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা বাদীর সন্তানদের মারধর করে আহত করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সন্তানদের রক্ষা করতে বাদীর মা ও স্ত্রী এগিয়ে গেলে আসামিরা হাতুড়ি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে বাদীর মায়ের মুখের সাতটি দাঁত ভেঙে যায় এবং বাদীর স্ত্রী মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। তার আরও দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এছাড়া বাদীর মায়ের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং বাদীর স্ত্রীর হাতে থাকা দুইটি সোনার রুলি ছিনিয়ে নেয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এক আসামি বাদীর স্ত্রীর পরনের পোশাক টান দিয়ে ছিঁড়ে শালীনতাহানি করেন। পরে তিনি বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে আলমারিতে রাখা জমি কেনার জন্য সংরক্ষিত ৮ লাখ টাকা নিয়ে যান। ঘটনার সময় ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে আসামিরা বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর বাদী আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন মো. সোহেল আরমান। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাবুদ্দিন মামলাটি তদন্ত করে চলতি বছরের ৩০ জুলাই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তবে ওই প্রতিবেদনে আসামী পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: শাহাবুদ্দিন চার্জশীট করেছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী সোহেল আরমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন গ্রহণ ও নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নাসিমের ছেলে মো. রোকন, মো. চুন্নু, একই এলাকার মুজাফফর মুন্সির ছেলের নাসির মুন্সি, তার মেয়ে রোকসানা ও নারগিস। এছাড়া আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।










































