প্রশাসনের দুর্বলতা ও উদাসীনতায় বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে-চরমোনাই পীর

সেপ্টেম্বর ২৮ ২০২৬, ২৩:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, “চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়ম এবং বিভিন্ন অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের পরিবর্তে জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা ও ইনসাফকে গুরুত্ব দিতে হবে।”

তিনি বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আরও সক্রিয়, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি নেতাকর্মীদের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল জনশক্তি গড়ে তোলা, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিক কাঠামোকে যথাসময়ে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের সফলতার জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম জোরদার করারও নির্দেশনা দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকালে চরমোনাই মাদরাসা অডিটোরিয়ামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এবং বরিশাল বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বিভাগের সকল উপজেলা ও সিটি ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান আলোচক হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “সংগঠনের আগামী দিনের লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং আদর্শিক ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলা। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করে জনগণের কাছে ইসলামী আন্দোলনের নীতি, আদর্শ ও কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিকভাবে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ এমপি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম। সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতিনিধিদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।