দুর্ভোগে ৭ গ্রামের হাজারো মানুষ
কলাপাড়ায় ৬ বছর ধরে ভাসমান সেতুতে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার
জুলাই ২৫ ২০২৬, ২২:৪৬
মহিপুর প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর ভেঙে পড়া সেতুর স্থানে নির্মিত অস্থায়ী ভাসমান সেতু দিয়ে গত ছয় বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাত গ্রামের মানুষ। প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা পারাপার হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাখিমারা খালের ওপর একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করে। গামইরতলা, মজিদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য এটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম।
তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে ২০২০ সালের ২১ মার্চ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেতুটি খালে ভেঙে পড়ে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয়ভাবে কাঠ, বাঁশ ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে একটি অস্থায়ী ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই অস্থায়ী ব্যবস্থাই আজও সাত গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।
বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সেতুটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য চাপেই এটি দুলতে থাকে। জোয়ারের সময় পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থী ও পথচারীরা খালে পড়ে যান। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের সামনে সেতুটি হওয়ায় ছোট ছোট শিশুরা সেখানে খেলতে গিয়েও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকে।
গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাঈজিৎ, তামান্না, ইকরাম হোসেন ও তাসমিয়া জানায়, বৃষ্টির দিনে বিদ্যালয়ে যেতে সেতু পার হতে খুব ভয় লাগে। অনেক সহপাঠী খালে পড়ে গেছে। জোয়ারের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. লিটন বলেন, ‘প্রায় সাত গ্রামের মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। বহুবার নতুন সেতু নির্মাণের আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।’
গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূর্ণিমা রানী বলেন, ‘প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। অনেক অভিভাবকও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হলে শুধু সাত গ্রামের মানুষের দুর্ভোগই কমবে না, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতও নিশ্চিত হবে।









































