ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন স্বামী পরিত্যক্তা বিউটি বেগমের
জুলাই ২৫ ২০২৬, ২২:৩৬
আবু জিহাদ, আমতলী : “বৃষ্টি নামলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। সারারাত বসে থাকি। ঘুমাইতে পারি না। আমারে যদি সরকার একটা ঘর দিত, তাইলে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতাম।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশরবুনিয়া গ্রামের স্বামী-পরিত্যক্তা অসহায় নারী বিউটি বেগম।নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে পায়রা নদীর তীরে অস্থায়ী বাঁধের ওপর একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পায়রা নদীর উপকূলসংলগ্ন অস্থায়ী বাঁধের ওপর টুকরো টিন, বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরই এখন বিউটি বেগমের একমাত্র আশ্রয়। বন্যা, জোয়ার, ঝড় ও ভারী বৃষ্টির সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে বসবাস করছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে ভয়াবহ নদীভাঙনে বিউটি বেগমের একমাত্র বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে কোনো স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি অস্থায়ী বাঁধের ওপর আশ্রয় নেন। কিন্তু সেই আশ্রয়ও নিরাপদ নয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি ঝরে, ঝড়ের সময় পুরো ঘর কেঁপে ওঠে। অনেক রাত নির্ঘুম কাটাতে হয় তাঁকে।
বিউটি বেগম জানান, বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগের মতো আর শ্রমের কাজ করতে পারেন না। কাজ পেলেও নিয়মিত করতে পারেন না। ফলে মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা আর ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই কোনোমতে জীবন চালাতে হচ্ছে। অনেক দিন একবেলা খেয়ে, আবার অনেক দিন না খেয়েও থাকতে হয়।
তিনি বলেন,“আগের ঘর নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। এখন এই বাঁধের ওপর কোনোমতে থাকি। বৃষ্টি আইলে পানি পড়ে, ঝড় আইলে মনে হয় ঘর উড়াইয়া নিবে। সরকার যদি একটা ঘর দিত, তাইলে অন্তত শান্তিতে থাকতাম।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস শরীফ বলেন, “বিউটি বেগম খুবই অসহায় মানুষ। দিন আনে দিন খায়। এখন শারীরিক অবস্থাও ভালো না। থাকার মতো কোনো ঘর নেই।
সরকার যদি তাকে একটি ঘর কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিত, তাহলে হয়তো মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চাইতে হতো না।” এ বিষয়ে আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিউলি পারভীন মালা বলেন,“বিউটি বেগমের বিষয়টি আমি জেনেছি। তাঁকে পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।”
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল হক কাওসার বলেন, “আমরা সরেজমিনে বিষয়টি যাচাই করব। তিনি যদি সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হন, তাহলে সমাজসেবা বিভাগের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন,“বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকৃতপক্ষে তিনি অসহায় ও যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলে তাঁকে সরকারের প্রচলিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।”
উপকূলীয় জনপদে নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দারিদ্র্যের কারণে এমন অসংখ্য পরিবার আজও নিরাপদ আবাসনের বাইরে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিউটি বেগমের মতো অসহায় মানুষের জন্য দ্রুত একটি স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করা হলে অন্তত জীবনের শেষ সময়টুকু নিরাপদে কাটানোর সুযোগ পাবেন তিনি।









































