ববিতে ব্যাপক শিক্ষক সংকট, পাঠদান ব্যাহত

জুলাই ২৫ ২০২৬, ২২:৫২

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ম অনুসারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক থাকার কথা ২৬০ জন। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষকের পদই ফাঁকা।বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫টি বিভাগ চালু থাকলেও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অধ্যাপক পদে শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। চরম এই শিক্ষকসংকট ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভাবে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকা আবশ্যক হলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে মাত্র ২১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৬২ জন। সে অনুযায়ী পাঠদানরত শিক্ষক রয়েছেন ১৪৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকেরা এ সংকটের জন্য উপাচার্য এবং ইউজিসিকে দায়ী করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শাখার তথ্যমতে, গণিত বিভাগে ৪৭৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান নিচ্ছেন ৭ শিক্ষক। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে ৩২০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন, রসায়ন বিভাগে প্রায় ৫০৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৭ জন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ৪০২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৫ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৪১৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৪ জন, আইন বিভাগে ৫ জন শিক্ষক দিয়ে ৪২৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন এবং আইন বিভাগের প্রধান ড. কায়সার আহমেদ জয় বলেন, আমরা অমানুষিক পরিশ্রম করি। একজন শিক্ষককে ৫-৬টি কোর্স নিতে হয়। আমাদের শুক্র, শনি বলতে কোনো ছুটি ভোগ করার সুযোগ হয় না। সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

শিক্ষক সংকট নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, তাদের মাঝে মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শিক্ষকের আশায়। অনেক সময় চাপের কারণে ক্লাস নিতে পারেন না শিক্ষকেরা। এ কারণে তাদের সেশনজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অর্গানোগ্রামভুক্ত অধ্যাপক পদের সংখ্যা ৪৯টি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অধ্যাপক ইংরেজি বিভাগের ড. মো. মুহসিন উদ্দীন। তিনি বলেন, ইউজিসি কয়েকটি বাজে নিয়ম করেছে। তারা যে পদ দেয়, তাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেয়। ওই সময়ের মধ্যে যথাযথ শিক্ষক না পেলে আবার ইউজিসির কাছে পদ ছাড় করতে অনুমতি নিতে হয়। তিনি বলেন, আমাদেরও দায় আছে। আমরা কেন সময়মতো নিয়োগ দিইনি। তার মতে, বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা ভিসিরা সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ দেননি।

এ ব্যাপারে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে এ মাসেই ইউজিসিতে চাহিদা পাঠিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২০-৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক দরকার। কিন্তু সে অনুযায়ী শিক্ষক নেই। এর ফলে পাঠদান করাতে শিক্ষকদের কষ্ট হচ্ছে। ইউজিসি অনুমতি দিলে নতুন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।