বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে বিরল ‘ভোল পোয়া’ ১১ হাজার টাকায় বিক্রি
আগস্ট ২৪ ২০২৬, ২২:৩১
মহিপুর প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘ভোল পোয়া’। মাছটি স্থানীয়ভাবে ‘বড়চোখা পোয়া’, ‘সাদা পোয়া’ ও ‘পোয়া’ নামেও পরিচিত।
সোমবার সকালে প্রায় ৩ কেজি ওজনের মাছটি আলিপুর মৎস্যবন্দরের সিফাত ফিসে আনা হয়। পরে খোলা ডাকের মাধ্যমে ১১ হাজার ১২৫ টাকায় মাছটি কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রাকিবুল ইসলাম। অর্থাৎ প্রতি মণ মাছের দাম পড়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা।
জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ‘এমএস সিফাত’ ট্রলারের মাঝি শাইখুলের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলে এর আকৃতি ও গঠন দেখতে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
ট্রলারের মাঝি শাইখুল বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ জালে বড় আকৃতির মাছটি উঠে আসে। এত বড় ও দেখতে ব্যতিক্রমী মাছ আগে খুব একটা দেখিনি। জালে এমন মাছ উঠবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি। ঘাটে আনার পর মাছটি দেখতে অনেকেই ভিড় করেন।’
সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাগরে এমন দুর্লভ মাছ পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। মাছটির আকার ও গঠন অন্যরকম। এ ধরনের মাছ ধরা পড়লে জেলেদের পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসায়ীরাও উৎসাহিত হন।’
মাছটির ক্রেতা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের মাছ সচরাচর কেনার সুযোগ পাওয়া যায় না। ঢাকার একজন ব্যবসায়ীর অর্ডারের ভিত্তিতে মাছটি কিনেছি। তিনি জানিয়েছেন, মাছটি বিদেশে রপ্তানি করা হবে।’
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে এটি পোয়া বা ক্রোকার গোত্রের (Family: Sciaenidae) মাছ বলে ধারণা করা যায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে এ গোত্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এর অনেক প্রজাতিই বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাছটির নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, ‘মাছটির বড় ও গভীর দেহ, বড় মাথা, প্রশস্ত মুখ এবং রূপালি-ধূসর বর্ণ পোয়া গোত্রের কয়েকটি প্রজাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটিকে পোয়া মাছ বলে ধারণা করা গেলেও নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে এ ধরনের ভোল পোয়া মাছ ধরা পড়া সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি দিক তুলে ধরে। বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। মাঝে মাঝে বিরল প্রজাতির মাছও জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’










































