৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে সুফল নেই, মঠবাড়িয়ায় পানির জন্য হাহাকার
আগস্ট ২৪ ২০২৬, ২২:৩৫
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা অর্থায়নে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করা হয়। এই প্রকল্পের কাজটি পান গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পৌর শহরে ৫৪ কিলোমিটার পানির পাইপ লাইন স্থাপন করেন। পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪ সালে কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারের লোকজন মঠবাড়িয়া পৌরসভার অফিসে অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজশে প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে খুবই নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর, সিমেন্ট ব্যবহার করে পাম্প হাউজ, বেজ ঢালাইসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ করেছেন। ওই সময় অভিযোগ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি বরং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে।
পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ,পানির প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্নস্থান থেকে পাইপ ফেটে পানি বের হচ্ছে। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করাতো দূরের কথা দৈনান্দিন কাজেও ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী।
পৌর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের গৃহিণী মাহমুদা আক্তার বলেন, সময় মতন আমরা পানি পাই না। যে কারণে বাসা বাড়ির কাজ করতে সমস্যা হয়। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয় কখন পানি আসবে। বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। আমরা খুব সমস্যার ভিতরে আছি।
নিউমার্কেট এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মাহিম আকন বলেন, পৌরসভার পানি প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ আত্মসাৎ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি চরম অন্যায়। এদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা উচিত।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, প্রকল্পটির প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসে পানি লাইনের পাইপ ফেটে যায়।আমরা চেষ্টা করতেছি নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামত করার। লো ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময় পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয় না এজন্য পৌরবাসীর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময় মতন পানি পাচ্ছে না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় পাইপ গুলো ফেটে যায় সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।









































