যারা দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ সামলাবে কেমনে- ডা. শফিকুর রহমান

ফেব্রুয়ারি ০৬ ২০২৬, ১৮:২৫

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যারা নিজেদের দল সামলাতে পারে না, তারা দেশ সামলাবে কীভাবে?” তিনি বলেন, গত ১৬ বছর জনগণ একটি দলকে দেখেছে এবং ৫ আগস্টের পর আরেক দলকে দেখেছে—এবার জনগণ বিচার করবে কারা দেশ পরিচালনার যোগ্য।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আরসি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৫৪ বছর ধরে যাদের যত বেশি বঞ্চিত করা হয়েছে, আমাদের উন্নয়ন সেখান থেকেই শুরু হবে। আমরা কোনো দল কিংবা পরিবারের বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।”

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামি ক্ষমতায় এলে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে। “সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, রাষ্ট্রপতি অপরাধ করলেও একই বিচার হবে।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতির ডাল-পালা ধরে টান দেব না, শিকড় ধরে টান দেব। দেশে কোনো চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “২৮ লাখ কোটি টাকা যারা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, তারা কখনো সেই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নয়, কেবল তারাই এই টাকা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।”

নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “জীবন দিতে রাজি আছি, কিন্তু কোনো মায়ের ইজ্জত দিতে রাজি নই। আমরা দেশে মা ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।” তিনি অভিযোগ করেন, তাকে নিয়ে মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তবে সেই ষড়যন্ত্র নিজেদের দিকেই ফিরে গেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা, দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। “তারপরও আমরা জনগণের পাশে ছিলাম। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।”

তিনি বলেন, “৫ তারিখের পর সুযোগ পেয়েও আমরা কোনো প্রতিশোধ নেইনি, কোনো মামলা করিনি, কোনো চাঁদাবাজি করিনি। আমরা মানুষের সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছি।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে গণভোট—‘হ্যাঁ’ ভোট। এরপরের ভোট হবে দাঁড়িপাল্লায়। একটি বার সুযোগ দিন। কোনো ধর্ম বা বর্ণের বৈষম্য থাকবে না, যোগ্যতার ভিত্তিতেই দেশ গড়া হবে।”

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসেন হেলাল, বরিশাল জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির ও বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল জব্বার, কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতাকর্মীরা।

এর আগে সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে মেহেন্দীগঞ্জে পৌঁছান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।